ট্রেড লাইসেন্স করতে কি কি লাগবে এবং লাইসেন্স করার নিয়মাবলী

যেকোন ধরনের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শুরু করার প্রথম শর্ত অবশ্যই একটি ট্রেড লাইসেন্স করা। ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া কোন ব্যবসা পরিচালনা করা ঠিক নয়। বিজনেস লাইসেন্স এর মাধ্যমে দেশের মধ্যে কোন বিজনেস পরিচালনা করার অনুমতি নেওয়া হয়। সুতরাং অনুমতি ছাড়া কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করলে রাষ্ট্রীয় আইন ভঙ্গের জন্য শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।

বর্তমানে এমন অনেক উদ্যোক্তারা আছেন। যারা লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করতে পারলেই নিজেকে সফল মনে করেন। নিজেকে অনেক চালাক মনে করে থাকেন। ব্যবসা শুরু করার জন্য ব্যবসায়িক লাইসেন্স সংগ্রহ করা একজন উদ্যোক্তা বা ব্যবসার জন্য মৌলিক একটা দায়িত্ব। কোন ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করলে অবশ্যই প্রথমে ট্রেড লাইসেন্স করার বিষয়ে উদ্যোগ নিতে হবে। কারণ, বিজনেস লাইসেন্স হচ্ছে ব্যবসায় কাজের প্রথম ধাপ।

ট্রেড লাইসেন্স করতে কি কি লাগব
ট্রেড লাইসেন্স

লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করা যায় আবার লাইসেন্স সংগ্রহ করার মাধ্যমে ব্যবসা করা যায়। তবে এদু’টি ব্যবসার মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। সহজ কথায় বলতে গেলে একটি হচ্ছে অনুমোদিত ভিত্তিক ব্যবসা আর অপরটি হচ্ছে রাষ্ট্রীয় অনুমোদন ছাড়া অন্যায় ব্যবসা।

বিজনেস লাইসেন্স সম্পর্কিত একাধিক প্রশ্নের উত্তরের মাধ্যমে আমরা জেনে নিব। বিজনেস লাইসেন্স কিভাবে করতে হয়? সুতরাং আপনি এই বিষয়গুলো সম্পর্কে ভালোভাবে ধারণা অর্জন করার জন্য বিডিব্লগ এর আজকের আর্টিকেলটি খুব মনোযোগ দিয়ে পড়ার অনুরোধ রইল।

Advertisement

ট্রেড লাইসেন্স কি?

ট্রেড লাইসেন্স হচ্ছে একটি ব্যবসায়িক সনদপত্র। এই লাইসেন্সের মাধ্যমে একটি রাষ্ট্রের মধ্যে ব্যবসা করার জন্য অনুমতি পত্র সংগ্রহ করা হয়। আপনি যদি বাংলাদেশের মধ্যে ব্যবসা করতে চান, তাহলে আপনাকে অবশ্যই একটি ট্রেড লাইসেন্স করতে হবে। প্রতিটি ব্যবসার জন্য ভিন্ন ভিন্ন লাইসেন্স করার প্রয়োজন হয়ে থাকে।

আপনি যে ক্যাটাগরিতে ব্যবসা শুরু করেছেন। উক্ত ক্যাটাগরির ধরন অনুযায়ী আপনাকে ট্রেড লাইসেন্স করতে হবে। লাইসেন্সের অনুমোদন ছাড়া বাংলাদেশের মধ্যে কোন ধরনের ব্যবসা পরিচালনা করা যাবে না। যদি কেউ অন্যায়ভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে থাকে, তাহলে তার জন্য তাকে রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী শাস্তি উপভোগ করতে হবে।

ট্রেড লাইসেন্স কেন প্রয়োজন?

সিটি কর্পোরেশন কর বিধান – ১৯৮৩ এর মাধ্যমে বাংলাদেশে বিজনেস লাইসেন্স এর সুচনা হয়েছিল। এই লাইসেন্স উদ্যোক্তাদের আবেদনের ভিত্তিতে প্রদান করা হয়ে থাকে। ব্যবসার প্রথম এবং অবিচ্ছেদ্য একটি ডকুমেন্ট হচ্ছে বিজনেস লাইসেন্স।

“ট্রেড” মানে হচ্ছে ব্যবসা আর “লাইসেন্স” মানে হচ্ছে অনুমতি। অর্থাৎ বিজনেস লাইসেন্স মানে হচ্ছে ব্যবসার অনুমতিপত্র। এই বিজনেস লাইসেন্স বাংলাদেশ সরকার সিটি কর্পোরেশন কর বিধান– ১৯৮৩ এর অধিনে ইস্যু করে থাকে। যেহেতু এই বিজনেস লাইসেন্স সরকারী প্রতিষ্ঠান হতে ইস্যু করা হয়। তাই আপনার ব্যবসার বৈধতার প্রতীক হচ্ছে এই বিজনেস লাইসেন্স।

Advertisement

আমরা একটু আগে আলোচনা করেছি। আপনি যদি ন্যায় ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় আইন মেনে ব্যবসা করতে চান, তাহলে এই ট্রেড লাইসেন্স আপনার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সম্পদ। সুতরাং যে কোন বিজনেস শুরু করার আগেই আপনি এই বিষয়টি নিশ্চিত করবেন। যেনো আপনি সঠিক ও ন্যায়ভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন। 

কোন প্রতিষ্ঠান থেকে বিজনেস লাইসেন্স করতে হয়?

আমার ইউটিউব চ্যানেলে আমি এই বিষয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিলাম।  এই ভিডিওতে আমার অডিয়েন্সের মধ্যে অধিকাংশ একটি কমন প্রশ্ন ছিল কোন জায়গা থেকে এই লাইসেন্স করতে হবে। আমি শুধুমাত্র এই প্রশ্নটি উত্তর দিতে দিতে অনেকটাই বিরক্তিবোধ করছিলাম। কারন এই প্রশ্নটিই এত বেশি করা হচ্ছিল। অধিকাংশ কল এবং ম্যাসেজিং এর মাধ্যমে আমি এই প্রশ্নটির উত্তর দিয়েছি।

অবশ্যই এখানে প্রধান ভুলটা আমারই ছিল। কারণ আমি যখন ভিডিওটি রেকর্ড করেছিলাম, তখন এই লাইসেন্স সম্পর্কে আলোচনা করেছি। এবং লাইসেন্স এর ব্যবহার সম্পর্কে আলোচনা করেছিলাম। কিন্তু আমি এই লাইসেন্সটি সংগ্রহ করার জন্য কোন কোন জায়গায় যেতে হবে এই বিষয়ে কোন ধারনা শেয়ার করি নাই।

 মূলত এই লাইসেন্স টি নির্ভর করে আপনি কোন এলাকা ভিত্তিক বা কোন এরিয়াতে আপনি ব্যাবসা করতে চাচ্ছেন তার ওপরে।  এই লাইসেন্সটি জায়গা থেকে সংগ্রহ করা যায়। 

Advertisement
  • সিটি করর্পোরেশন
  • পৌরসভা
  • ইউনিয়ন পরিষদ 

আপনি যদি কোন একটি নির্দিষ্ট শহরের মধ্যেই ব্যবসা করতে চান, তাহলে আপনাকে সিটি কর্পোরেশন থেকে এই লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হবে। এবং যদি কোন  পৌরসভার মধ্যেই আপনি ব্যবসা করতে চান, তাহলে এই ট্রেড লাইসেন্সটি পৌরসভা থেকেই সংগ্রহ করতে হবে। এবং ইউনিয়নভিত্তিক হলে আপনাকে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হবে।

কিভাবে বিজনেস ট্রেড লাইসেন্স করতে হয়?

নির্ধারিত আবেদন ফর্মে বিজনেস লাইসেন্স এর জন্য আবেদন করতে হবে। ব্যবসায়ীর আবেদনের উপর ভিত্তিতে এই লাইসেন্স প্রদান করা হয়ে থাকে। আবেদন ফরম এর সাথে ব্যবসায়ীকে কিছু কাগজপত্র জমা দিতে হয়। ব্যবসার ধরনের উপর ভিত্তি করে বিজনেস লাইসেন্স এর জন্য আবেদন এবং প্রয়োজনীয়কাগজপত্র একসাথে জমা দিতে হয়।

আপনাদের এই প্রশ্নটিই অবশ্যই মনে আসবে। কোন ব্যবসার জন্য কি ধরনের কাগজ আপনাকে জমা দিতে হবে? আমাদের আজকের আর্টিকেলটি পরিপূর্ণ পড়ুন আশা করি এই উত্তরটি আপনি সহজেই পেয়ে যাবে।  আমাদের আজকের আর্টিকেল এর মধ্যে আমরা একটি পুরোপুরি সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করব। 

ট্রেড লাইসেন্স করতে কি কি কাগজপত্র জমা দিতে হয়? 

Advertisement

বিজনেস লাইসেন্স করতে যেসব কাগজপত্র জমা দিতে হয় তা হচ্ছে –

Advertisement

আমরা একটু আগে আলোচনা করেছি। আপনার ব্যবসার ধরনের ওপর ভিত্তি করে আপনাকে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। কি কি কাগজ ও প্রয়োজনীয় দলিল জমা দিতে হবে। এবিষয়ে আমরা পরবর্তীতে আলোচনা করছি। 

এখানে আপনাকে একটা বিষয়ে মনোযোগী হতে হবে আপনার কোন ব্যবসার জন্য কি ধরনের কাগজপত্র প্রয়োজন সেটা আপনাকে সিলেকশন করতে হবে।  আমরা সাধারন ব্যবসা এবং অন্যান্য ক্যাটাগরির ব্যবসা সবগুলো নিয়ে এখানে আলোচনা করব এবং কোনটাতে কিরকম দলিলাদি আপনাকে জমা দিতে হবে সে বিষয়ে আলোচনা করব।

সাধারণ ব্যবসার বিজনেস লাইসেন্স এর ক্ষেত্রে-

  • নির্দিষ্ট আবেদন ফরম পূরণ করে তা জামা দিতে হবে
  • ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্থান ব্যক্তিগত হলে সিটি কর্পোরেশনের হালনাগাদ হোল্ডিং ট্যাক্সের রশিদ নিজের দোকান হলে ইউটিলিটি বিল এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাড়ায় হলে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে ভাড়ার চুক্তিপত্রে সত্যায়িত ফটোকপি
  • আবেদনকারীর ৩ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি জমা দিতে হবে
  • ব্যবসা যদি যৌথভাবে পরিচালিত হয় তাহলে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল ষ্ট্যাম্পে পার্টনার শিপের অঙ্গীকারনামা/শর্তাবলীসহ জমা দিতে হবে।

 ফ্যাক্টরির বিজনেস লাইসেন্স এর ক্ষেত্রে:

আপনি যদি কোন ফ্যাক্টরি বিজনেস পরিচালনা করতে চান।  এক্ষেত্রে আপনাকে একটি ফ্যাক্টরি পরিচালনার জন্য যে কাগজপত্রগুলো সংগ্রহ করতে হবে। এবং লাইসেন্সের জন্য যে সকল কাগজপত্র জমা দিতে হবে। সে বিষয়ে নিচে আলোচনা করা হয়েছে।

  • পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রের কপি
  • প্রস্তাবিত ফ্যাক্টরি/কারখানার পার্শ্ববর্তী অবস্থান/স্থাপনার বিবরণসহ নকশা/লোকেশন ম্যাপসহ জমা দিতে হবে
  • প্রস্তাবিত ফ্যাক্টরি/কারখানার পাশ্ববর্তী অবস্থান/স্থাপনার মালিকের অনাপত্তিনামা সহ সংযুক্ত করতে হবে
  • ফায়ার সার্ভিস এর ছাড়পত্র সংযুক্ত করতে হবে।

সি.এন.জি ষ্টেশন/দাহ্য পদার্থ ব্যবসার ক্ষেত্রে: 

সিএনজি বা অটো  পরিচালনার জন্য যেসকল দাহ্য পদার্থ বা জ্বালানীর প্রয়োজন হয়। এই সকল জ্বালানি সংগ্রহ করার জন্য বা বিক্রি করার জন্য স্টেশন বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তৈরি করা হয়। তার জন্য একটি লাইসেন্স প্রয়োজন হয়ে থাকে।  এই লাইসেন্স করতে কি কি ধরনের কাগজপত্র আপনাকে সংগ্রহ করতে হবে। এবং জমা দিতে হবে এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

Advertisement
  • বিস্ফোরক অধিদপ্তর/ ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র/অনুমতিপত্র।
  • ক্লিনিক/প্রাইভেটহাসপাতাল এর ক্ষেত্রে ডিরেক্টর জেনারেল – স্বাস্থ্য, কর্তৃক অনুমতিপত্র।

লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে:

একের অধিক ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত যে সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শুরু হয়, তাদেরকে লিমিটেড কোম্পানি বলা হয়ে থাকে। পরবর্তীতে আমরা লিমিটেড কোম্পানি সম্পর্কে আরও কিছু বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আলোচনা করার চেষ্টা করব। কারণ লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে অনেক কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এবং লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে কতজন সদস্য কি ধরনের লিমিটেড কোম্পানি হলে যুক্ত করা যাবে। এবিষয়ে রাষ্ট্রীয় আইন রয়েছে। 

  • কোম্পানির মেমোরেন্ডাম অব আর্টিকেল অথবা সার্টিফিকেট অব ইনকর্পোরেশনসহ জমা দিতে হবে।

প্রিন্টিং প্রেস এবং আবাসিক হোটেল এর ক্ষেত্রে: ডেপুটি কমিশনার, কর্তৃক অনুমতিপত্র।

রিক্রুটিং এজেন্সির ক্ষেত্রে: মানব সম্পদ রপ্তানী ব্যুরো কর্তৃক প্রদত্ত লাইসেন্স।

অস্ত্র ও গোলাবারুদ এর ক্ষেত্রে: অস্ত্রের লাইসেন্স।

Advertisement

ঔষধ ও মাদকদ্রব্যের ক্ষেত্রে:

বর্তমান সময়ে ঔষধ বা মাদক দ্রব্য  ব্যবসা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।  বর্তমান উদ্যোক্তারা এই ব্যবসা সম্পর্কে খুব বেশি মনোযোগী।  কারণ এই ব্যবসা থেকে খুব বেশি পরিমাণ লাভবান হওয়া সম্ভব।  কিন্তু এই ব্যবসার ক্ষেত্রে জটিল কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যে বৈশিষ্ট্যগুলো না মানলে অবশ্যই আপনি এই ধরনের ব্যবসা গুলো করতে পারবেন না।

ঔষধ ব্যবসা করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কাগজ হচ্ছে: ড্রাগ লাইসেন্স এর কপি।

ট্রাভেলিং এজেন্সির ক্ষেত্রে: সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের অনুমতি। বাংলাদেশের মধ্যে বর্তমানে অনেকগুলো ট্রাভেল এজেন্সি রয়েছে। যারা বর্তমানে লাইসেন্স গ্রহণ করে ব্যবসা পরিচালনা করছে। আপনিও যদি ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসা করতে চান, তাহলে অবশ্যই আপনাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে অনুমোদন নিয়ে ব্যবসা শুরু করতে হবে। ব্যবসা শুরু করার জন্য অবশ্যই ট্রেড লাইসেন্স হচ্ছে আপনার জন্য মৌলিক বিষয়।

বিজনেস লাইসেন্স করতে কতো টাকা লাগে?

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয় এর স্থানীয় সরকার বিভাগ, পৌর- ১ শাখা হতে বিশেষ প্রজ্ঞাপন এর মাধ্যমে বিজনেস লাইসেন্স এর বিভিন্ন ফি নির্ধারণ করা হয়। ব্যবসার ধরণ এর উপর ভিত্তি করে বিজনেস লাইসেন্স এর ফি কত টাকা হবে তা নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এবিষয়ে তথ্য জানা যাবে।

Advertisement

আপনি যদি এই বিষয়ে সঠিক তথ্য জানতে চান, তাহলে আপনারা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশনে গিয়ে যোগাযোগ করুন।  এই অফিসগুলোতে আপনি ফ্রি সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাবেন।

কারা ট্রেড লাইসেন্স করতে পারবেন?

নারী, পুরুষ উভয়ই ট্রেড লাইসেন্স করতে পারবেন। তবে অবশ্যই তাকে কোন না কোন ব্যবসার সাথে জড়িত থাকতে হবে। বয়স ১৮ বছর এর উপরে হতে হবে। মনে রাখতে হবে কোন ব্যবসা ছাড়া এই লাইসেন্স সংগ্রহ করা যায় না। এবং অবশ্যই লাইসেন্স পাওয়ার জন্য আপনার উপযুক্ত  বয়স হতে হবে।

একটি ট্রেড লাইসেন্স কি আরও একাধিক ব্যবসায় ব্যবহার করা যাবে?

না। একটি ট্রেড লাইসেন্স শুধু মাত্র একটি ব্যবসার জন্যই ব্যবহার করা যাবে। আপনি যে ব্যবসা পরিচালনার জন্য বিজনেস লাইসেন্সটি করিয়েছেন। শুধুমাত্র সেই ব্যবসা পরিচালনার জন্য ব্যবহার করা যাবে। অন্য কোন ধরনের ব্যবসার জন্য একই বিজনেস লাইসেন্স ব্যবহার করা যাবে না। নতুন কোন ব্যবসা শুরু করলে তার জন্য নতুন বিজনেস লাইসেন্স করিয়ে নিতে হবে।

একটি ট্রেড লাইসেন্স কি একাধিক ব্যক্তি ব্যবহার করতে পারবেন?

Advertisement

না। একটি বিজনেস লাইসেন্স শুধু মাত্র একজন ব্যবহার করতে পারবেন। অর্থাৎ যে ব্যক্তির নামে বিজনেস লাইসেন্সটি করা হয়েছে। এটি শুধু তিনিই ব্যবহার করতে পারবেন। এটা কোনভাবেই হস্তান্তর যোগ্য নয়। 

Advertisement

ট্রেড লাইসেন্স কিভাবে এবং কোথা থেকে নবায়ন করতে হয়?

যে অফিস থেকে বিজনেস লাইসেন্স ইস্যু করা হয় বা যেখান থেকে বিজনেস লাইসেন্স করিয়েছিলেন। সেখান থেকেই বিজনেস লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়। বিজনেস লাইসেন্স সাধারণত ১ বছরের জন্য ইস্যু করা হয়। প্রতি বছর ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করিয়ে নিতে হবে। পুরানো বিজনেস লাইসেন্স দেখিয়ে নতুন করে বিজনেস লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়।

বিডিব্লগের আজকের টিউটোরিয়ালে আমরা চেষ্টা করেছি। ট্রেড লাইসেন্স সম্পর্কে পরিপূর্ণ একটা ধারণা আপনাদের সাথে শেয়ার করার জন্য। আপনাদের যদি এই বিষয়ে আর কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থাকে। এই প্রশ্নটিই আমাদেরকে কমেন্টের মাধ্যমে জানান। আমরা আপনার প্রশ্নটিই কে মূল্যায়ন করব এবং উত্তর দিতে চেষ্টা করব।

bdbloq site icom

একজন ইলেক্ট্রিক্যাল বিষয়ে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে সবসময় টেকনোলজি কে অগ্রাধিকার দিতে ভালোবাসি। প্রযুক্তির সাথে এগিয়ে যেতে ও নিজেকে সবসময় আপডেট রাখার জন্য নিয়মিত প্রযুক্তিগত জ্ঞান নিজে অর্জনের পাশাপাশি অন্যদের সাথে শেয়ার করাতে ভালো লাগে। সময় পেলে প্রযুক্তি, ব্যবসা, মার্কেটিং বিষয়ে লিখতে চেষ্টা করি। পেশা যাই হোক, তা হতে লাভবান হতে চাইলে ব্যবসা ও মার্কেটিং জ্ঞান আবশ্যক।

বাক্সে আপনার মতামত লিখে জানান