ব্যবসায়ের জন্য ইউটিউব চ্যানেল খোলার নিয়ম

ব্যবসায়ের জন্য ইউটিউব চ্যানেল খোলার নিয়ম

Advertisement

আপনি নিজের ব্যবসায়ের জন্য সফল ইউটিউব চ্যানেল শুরু করার কথা ভাবছেন, তাই না? এই ভাবনা ব্যবসার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইউটিউব চ্যানেল খোলার নিয়ম নিয়ে সহজ আলোচনা করবো। ইউটিউব প্ল্যাটফর্মটিতে প্রতি এক মিনিটে ৪০০ ঘন্টার ভিডিও আপলোড করা হয়। এটি বর্তমানে ব্যবসার জন্য একটি স্মার্ট পদক্ষেপ। এক্ষেত্রে ইউটিউব চ্যানেল খোলার নিয়ম তা জানলে সবকিছু করা সম্ভব। এমনটা সহজে চিন্তা করা ঠিক হবেনা। রিলাক্স – আমি আপনার ব্যবসায়ের জন্য সফল ইউটিউব চ্যানেল কিভাবে পরিচালনা করতে হবে তা আজ শেখাবো।

ইউটিউব চ্যানেল খোলার নিয়ম –

ইউটিউব চ্যানেল খোলার নিয়ম গাইডটি পরিপূর্ণ পড়ুন। এবং কোন সমস্যা হলে আমাদের কমেন্টস করে জানাবেন। আমরা সব সময় আমাদের বিডি ব্লগের পাঠকদের জন্য প্রয়োজনীয় কনটেন্ট গুলো নিয়ে কাজ করি।  আশা করি আজকের  আর্টিকেলটি আপনাদের ইউটিউব চ্যানেল  তৈরি করার কাজে অনেকটা সাহায্য করবে।

বেসিক থেকে কাজ শুরু করুন:

আপনাকে প্রথমে যা করতে হবে তা হ’ল প্রথমে আপনার ব্যবসায়ের চ্যানেল তৈরি করা। ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করা অবিশ্বাস্যরকম সহজ একটা কাজ। মাত্র কয়েকটি ক্লিকের মাধ্যমে আপনি নিজের নতুন চ্যানেলটি সেট-আপ করে প্রস্তুত করতে পারেন। 

চলুন, তাহলে জেনে নেওয়া যাক:

  1. ইউটিউবে জিমেইল দিয়ে সাইন ইন করুন এবং স্ক্রিনের উপরের ডানদিকে আপনার জিমেইলের প্রোফাইল আইকনে ক্লিক করুন।
  2. আপনার অ্যাকাউন্টের “YouTube” সেটিংস পেতে গিয়ার আইকনে ক্লিক করুন।
  3. এবার “ক্রিয়েট নিউ চ্যানেলে” ক্লিক করুন।
  4. তারপরে “আপনার ব্যবসা বা নিজের নাম লিখুন।”
  5. আপনার চ্যানেলের নাম যুক্ত করার পর Create Channel এ ক্লিক করুন। হয়ে গেলে আপনার নতুন চ্যানেল তৈরি।

কিভাবে ইউটিউব চ্যানেল খুলবো?

একটি গুগল একাউন্টের মাধ্যমে সম্পূর্ণ ফ্রিতে ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করা যায়। কিভাবে ইউটিউব চ্যানেল খুলবেন তা জানার জন্য নিচের টিউটোরিয়াল ভিডিওটি দেখুন – ভিডিওতে একটি ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করার পরিপূর্ণ গাইড দেওয়া আছে।

সঠিকভাবে চ্যানেলের ডেসক্রিপশন করা –

চ্যানেল তৈরির কাজ শেষ হলে, এখন আপনি নিজের প্রোফাইল এবং চ্যানেলের বিবরণ পূরণ করুন। আপনি চ্যানেল তৈরি করার পরে এটিই প্রথম কাজ। চ্যানেলের ডেসক্রিপশনে আপনার ব্র্যান্ড সম্পর্কে বর্ণনা করুন। এবং আপনার চ্যানেল থেকে দর্শকরা কী পাবে তা নিয়ে আলোচনা করুণ। আপনার ওয়েবসাইট এবং আপনার ব্যবহৃত অন্যান্য সোস্যাল মিডিয়া একাউন্টগুলোর লিঙ্ক চ্যানেলের সাথে যুক্ত করুণ। সোস্যাল মিডিয়া একাউন্টগুলোর লিঙ্ক যুক্ত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এগুলো আপনাকে আরও বেশি পরিচিত করতে সাহায্য করবে।

আপনার চ্যানেল আর্ট যুক্ত করুণ:

আপনি যখন কোনও ইউটিউব চ্যানেলে যাবেন, তখন প্রতিটি চ্যানেলের হেডারে একটা বড় ব্যানার বা ছবি দেখতে পাবেন। এটি আপনার কভার ফটো এবং আপনার ব্র্যান্ডটিকে দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করার জন্য প্রধান রিয়েল এস্টেট।

নিজের কভার ফটোটি নিজের পছন্দ মতোই ব্যবহার করতে পারেন। তবে এটি নিশ্চিত করুন যে, আপনার কভার ফটোটি ইউটিউবের বলা নির্দিষ্ট সাইজ অনুযায়ী হয়েছে কিনা? ইউটিউব কভার ফটোটি সর্বোচ্চ 4MB এবং 2560 x 1440 পিক্সেলে আপলোড করার পরামর্শ দেয়।

মার্কেট এবং আপনার কন্টেন্ট সম্পর্কে জানুন:

যেহেতু আপনি আপনার নিজের ব্যবসায়ের জন্য একটি ইউটিউব চ্যানেল শুরু করছেন। সেহেতু আপনার মার্কেট সম্পর্কে ধারণা অর্জন করা উচিত। এবং মার্কেটে কি ধরনের কন্টেন্ট এর চাহিদা আছে তা সম্পর্কে বিস্তারিত রিসার্চ করা প্রয়োজন।

Advertisement
ইউটিউব চ্যানেল খোলার নিয়ম
ইউটিউব চ্যানেল খোলার নিয়ম

যদি আপনার একটি জটিল পণ্য থাকে। আপনার গ্রাহকদের এ সম্পর্কে আরও জানার জন্য বর্তমানে ট্রেন্ডিংয়ে আছে এমন  ভিডিও টিউটোরিয়ালগুলো হচ্ছে আপনার জন্য দুর্দান্ত উপায়। আপনার ব্যবসায়ের টার্গেট ডেমোগ্রাফিককে লক্ষ্য করে এমন ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি করতে হবে। যেন আপনি আপনার টার্গেটের বাজারটি দখল করতে পারেন।

লাইট, ক্যামেরা, ট্রেলার দিয়ে ইউটিউব চ্যানেল খোলার নিয়ম –

আপনার চ্যানেল আর্টের মতো, আপনাকে এখন চ্যানেলের ট্রেলার তৈরি করতে হবে। ইউটিউব চ্যানেল খোলার নিয়ম এর মধ্যে এটিও রয়েছে। চ্যানেলের ট্রেলার সাধারণত সংক্ষিপ্ত এবং মিষ্টি হয়। এবং একজন নতুন দর্শকদের জন্য একটি ভাল ভূমিকা রাখে। ট্রেলারের মাধ্যমে আপনি আপনার শ্রোতাদের জানাতে পারবেন যে, আপনি কে? আপনার ব্যবসায়ের বিষয় কি? এবং ভবিষ্যতে তারা কি ধরণের পণ্য বা সেবা সম্পর্কে সেবা প্রত্যাশা করতে পারে? আপনার চ্যানেলের ট্রেইলার তৈরি করা আপনার প্রথম ভিডিও কন্টেন্ট তৈরির জন্য ভালো অনুশীলন হবে।

আপনার প্রথম (অফিসিয়াল) ভিডিও আপলোড করুনঃ

এই মুহুর্তে, আপনি সম্ভবত আপনার প্রথম ভিডিওটি সম্পর্কে যথেষ্ট পরিমাণে গবেষণা করেছেন। এবং যদি ইতিমধ্যে আপনার চ্যানেলের ট্রেলারটি তৈরি করে থাকেন। তবে আপনার ভিডিও তৈরিতে কিছুটা অনুশীলন ও অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছে। এখন সময় এসেছে “আত্মবিশ্বাসের সাথে কাজে লেগে থাকা”।

আপনার প্রথম ভিডিও তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়ে গেলে। এখন এটি আপলোড করার সময় এসেছে। সুতরাং সময় না নিয়ে ভিডিও আপলোড করুন।

সার্চ রেজাল্টে নিয়ে আসার জন্য অপটিমাইজ করুন:

কোনও ভিডিও আপলোড করার সময়, আপনাকে শিরোনাম, বিবরণ এবং ট্যাগ সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে। ভিডিওটি ইউটিউব অনুসন্ধানে সহজেই পাওয়ার জন্য এগুলো খুবই প্রয়োজনীয় উপাদান। তাই এগুলো কখনও এড়িয়ে চলবেন না!

নিজের ওয়েবসাইটের জন্য এসইও করার মতোই, ইউটিউব ভিডিও গুলোর এসইও করতে হবে। আপনার ভিডিও কন্টেন্ট ইউটিউব এলগরিদম যদি ভালভাবে পড়তে পারে। তবে ভিডিওগুলো বেশি মানুষ দেখবে।

ধারাবাহিকতা বজায় রাখুন:

খুব দ্রুত সাফল্যের আশা করবেন না। যদি আপনি কোনও ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করতে চান, তাহলে আগে মেনে নিতে হবে দ্রুত সফল হতে চেষ্টা করা যাবেনা। একটি ভিডিও আপলোড করেই যদি আপনি ইউটিউবে সফলতার আশা করেন। এটা খুবই লজ্জাজনক হবে। 

ইউটিউবে সফল হতে কখনও অবহেলা করা যাবেনা। একটি সফল ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করতে সময় এবং প্রচেষ্টা লাগে। প্রতিটি ভিডিও আপলোড করার আগে পরিকল্পনা করতে হবে। ভালো করে রিসার্চ করতে হবে। ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে একটি নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে প্রতিটি ভিডিও একই সময়ে নিয়মিত আপলোড করুন।

আপনার ওয়েবসাইট এবং সোস্যাল মিডিয়া গুলোর সাথে আপনার চ্যানেল লিঙ্ক করুন –

আপনার কাছে যদি একটা ওয়েবসাইট থাকে, তাহলে আপনার চ্যানেলটি ওয়েবসাইটের সাথে যুক্ত করুণ। ওয়েবসাইট না থাকলে কোনো সমস্যা নেই। তবে ফেসবুক, টুইটার ও লিংকড-ইনের সাথে ইউটিউব চ্যানেল যুক্ত করতে ভুলবেন না।

Advertisement

এখন নিয়মিত ভিডিও আপলোড করার পর ভিডিওটি আপনার সোস্যাল মিডিয়া একাউন্ট গুলোতে শেয়ার করবেন। এই কাজ কখনও শেষ করবেনা। এটি চলতেই থাকবে।

কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের সাথে যোগাযোগ রাখুন:

আপনার মত যারা ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি করেন, তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখুন। তাদের কাছ থেকে পরামর্শ গ্রহণ করুণ। এ কাজ আপনাকে দ্রুত সফল হতে সাহায্য করবে। সম্পর্ক বজায় রাখা এটি আপনার জন্য আর্ট হতে পারে৷ কেননা সবাই বিশ্বাসের সাথে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে পারে না।

ইউটিউব বিজ্ঞাপনে বিনিয়োগ সম্পর্কে চিন্তা করুন:

আপনি যদি চান নিজের ব্র্যান্ডটি আরও এগিয়ে নিতে, তাহলে YouTube বিজ্ঞাপনে বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা রাখতে পারেন। বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আপনি আপনার টার্গেটেড সঠিক দর্শকদের কাছে আপনার ভিডিও কন্টেন্ট পৌঁছাতে পারেন।

ইউটিউব চ্যানেল খোলার নিয়ম জানতে কি সক্ষম হয়েছেন?

Advertisement

আশাকরি, এই কাজগুলো যদি আপনি ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন করতে পারেন। তাহলে আপনি অবশ্যই একটি সফল ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করতে পেরেছেন। এই আর্টিকেলটির মধ্যে আমরা পরবর্তীতে আরো বিস্তারিত আলোচনা করব ইউটিউব চ্যানেল সম্পর্কিত। আপনার যদি এ সম্পর্কিত আরো কোন প্রশ্ন থাকে, তাহলে আমাদের কমেন্ট বক্সে জানান। 

Advertisement

Md thouhidul islam tawhid - seo and digital marketing

একজন ইলেক্ট্রিক্যাল বিষয়ে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে সবসময় টেকনোলজি কে অগ্রাধিকার দিতে ভালোবাসি। প্রযুক্তির সাথে এগিয়ে যেতে ও নিজেকে সবসময় আপডেট রাখার জন্য নিয়মিত প্রযুক্তিগত জ্ঞান নিজে অর্জনের পাশাপাশি অন্যদের সাথে শেয়ার করাতে ভালো লাগে। সময় পেলে প্রযুক্তি, ব্যবসা, মার্কেটিং বিষয়ে লিখতে চেষ্টা করি। পেশা যাই হোক, তা হতে লাভবান হতে চাইলে ব্যবসা ও মার্কেটিং জ্ঞান আবশ্যক।

নিচের বাক্সে আপনার মতামত লিখে জানান।