পার্ট টাইম জব এর জন্য কিভাবে সিভি তৈরি করতে হবে

সিভি তৈরি নিয়ে আমাদের প্রত্যেকেরই বেশি কম সমস্যা হয়ে থাকে। আজকের আর্টিকেলে আমরা জানবো পার্ট টাইম জব এর জন্য কিভাবে সিভি তৈরি করতে হবে। অনেক এমন ছাত্রছাত্রীরা আছে যারা পড়াশোনার পাশাপাশি নিজে একটি চাকরি করতে চাই। ছাত্রদের জন্য পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরি করার সেরা উপায় হচ্ছে পার্ট টাইম জব।

কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আমরা যখন জবের জন্য আবেদন করার চেষ্টা করি। তখন আমাদের বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। আমাদের প্রত্যেকের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে চাকরির জন্য সিভি তৈরি করা। পার্ট টাইম জব পাওয়ার জন্য প্রধান হাতিয়ার সেটা হচ্ছে ভালো মানের একটি সিভি। সিভি যদি ভালো না হয়, তাহলে কোন চাকরিতে ডাক পাওয়ার সম্ভাবনা থাকেনা। এজন্য আমাদের জানতে হবে। কিভাবে একটি পার্টটাইম চাকরির জন্য উন্নত মানের সিভি ডিজাইন করতে হয়?

পার্ট টাইম জব এর জন্য সিভি তৈরি
পার্ট টাইম জব এর জন্য সিভি তৈরি

সিভি শব্দের পুরোপুরি অর্থ হচ্ছে কারিকুলাম ভিটা। সাধারণত নিজের পরিচয় সহজভাবে উপস্থাপন করার জন্য সিভি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। চাকরির জন্য আবেদন করতে যেই কাগজটি আমরা সিভি হিসেবে উপস্থাপন করি। এটা মূলত সিভি নয়। এটাকে মূলত রিজুমী বলা হয়। যাই হোক, আজকের আর্টিকেলে আমরা পার্ট টাইম জব এর জন্য কিভাবে একটি রিজুমি তৈরি করতে হবে? তার সম্পর্কে আমরা বিস্তারিত জেনে নিব।

পার্ট টাইম জব এর জন্য সঠিকভাবে রিজুমি বা সিভি তৈরি করার সঠিক পদ্ধতি –

আমরা এখানে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করার চেষ্টা করবো। আপনারা সঠিকভাবে যদি আপনার রেজুমি ডিজাইন করতে পারেন, তাহলে অবশ্যই আপনার জব কনফার্ম হওয়ার গ্যারান্টি থাকবে। আমরা এখানে ধাপে ধাপে কিভাবে আপনাকে সিভি তৈরি করতে হবে? সে বিষয়ে আলোচনা করে বিস্তারিত জানাবো। তবে আপনাকে এটা লক্ষ্য রাখতে হবে। আপনি কি ধরনের শব্দ আপনার সিভিতে ব্যবহার করবেন? এবং কি কি স্কিল আপনার রয়েছে? সে বিষয়ে আপনি পর্যালোচনা করেই আপনার সিভিতে সবগুলো দক্ষতা যুক্ত করবেন।

কিভাবে একটি পার্ট টাইম জব এর জন্য সিভি তৈরি করতে হবে?

কিভাবে পার্ট টাইম জব এর জন্য রিজুমি তৈরি করবেন? তার একটি টেমপ্লেট ডিজাইন সংগ্রহ করার জন্য আমাদেরকে সরাসরি আমাদের ফেসবুক পেজে ম্যাসেজ করতে পারেন। আপনার মেসেজ পেলে আমরা আপনাকে একটি স্যাম্পল হিসেবে পার্ট টাইম চাকরি সিভি টেমপ্লেট শেয়ার করব।

পার্ট টাইম চাকরির সিভি তে ব্যক্তিগত অভিমত সঠিকভাবে উপস্থাপন করুন:

প্রতিটি শিবির শুরুতেই ব্যক্তিগত অভিমত প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক। এই ব্যক্তিগত অভিমত এর উপর ভিত্তি করেই আপনার সিভির মান নির্ভর করবে। যারা সাধারণত ইন্টারভিউ গ্রহণ করে থাকেন, তাদের এমন অভিজ্ঞতা রয়েছে। আপনার সিভি দেখে তারা বুঝতে পারবে আপনি কতটুকু যোগ্য।

ব্যক্তিগত অভিমত প্রকাশের সময় আপনাকে খুব সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। যেন কোন নেগেটিভ শব্দ বা নিজের সম্পর্কে কোন নেগেটিভ আপনি উপস্থাপন না করেন। আপনার উল্লেখ করা নেগেটিভ একটি শব্দ আপনার চাকরিটা হওয়ার সম্ভাবনা কে শেষ করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। আপনি ব্যক্তিগত অভিমত এর ক্ষেত্রে নিজেকে এমন ভাবে উপস্থাপন করুন। যেন আপনার নেগেটিভ বিষয়টিও আপনার জন্য পজেটিভ হিসেবে কাজ করে।

আমাদের মধ্যে আবার অনেকে এমন আছে। যারা ব্যক্তিগত অভিমত এর মধ্যে নিজের মা বাবার নাম, ছোটবেলার অপ্রয়োজনীয়’ গল্প, বা নিজের নাম ও জন্ম নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে লিখে থাকেন। যদি সত্যিই আপনি এমন কিছু উল্লেখ করে থাকেন, তাহলে আমি শতভাগ গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি। আপনার সিভিটি ইতিমধ্যে রিজেক্ট হয়েছে। সুতরাং আপনার সিভি-তে আপনি ব্যক্তিগত অভিমত প্রকাশের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে ভুল করবেন না। এমন কোন শব্দ বা বাক্য ব্যবহার করবেন না। যা আপনাকে খারাপভাবে উপস্থাপন করে।

পার্ট টাইম জব এর জন্য সিভি তে দক্ষতা পরিষ্কার ভাবে উল্লেখ করুন:

পার্ট টাইম জব এর জন্য দক্ষতা গুলো এত বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আপনার যদি সামান্য ভালো কিছু উপযুক্ত দক্ষতা থাকে, তাহলে আপনি যে কোন কোম্পানিতে পড়াশোনার পাশাপাশি পার্টটাইম চাকরি করতে পারবেন। আপনার দক্ষতার মধ্যে অবশ্যই মাইক্রোসফট অফিস সম্পর্কে ভালো দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ। যে কোন চাকরিতে মূলত মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, মাইক্রোসফট এক্সেল, মাইক্রোসফট পাওয়ারপয়েন্ট এই সফটওয়্যার গুলোর ব্যবহার উল্লেখযোগ্য।

এই সফটওয়্যারগুলোর ভালো ব্যবহার জানলে। যেকোন পর্যায়ে আপনি অন্যদের থেকে অতিরিক্ত মূল্যায়ন পাবেন। এছাড়াও বিভিন্ন ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার, অনলাইন হিসাবরক্ষক সফটওয়্যার, এবং অফিশিয়ালি ব্যবহ্নত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যারগুলো ভালোভাবে পরিচালনা করা জানতে হবে।

আপনি যে সকল বিষয়ে ভালো দক্ষতা অর্জন করেছেন। এবং আপনি বর্তমানে যে চাকরির জন্য আবেদন করতে যাচ্ছেন। সেই জবের সাথে রিলেটেড সকল উপযুক্ত দক্ষতাগুলো সহজ ও সুন্দর ভাবে আপনার পার্ট টাইম জব এর সিভিতে উল্লেখ করুন।

কর্মসংস্থান ইতিহাস উল্লেখ করুন –

এক্ষেত্রে অনেকে প্রশ্ন করবেন। একজন ছাত্র হিসেবে আপনার কি কি কর্মক্ষেত্রের দক্ষতা বা ইতিহাস থাকতে পারে? এটি খুব সহজ। আপনি স্কুল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত যতগুলো সামাজিক সংগঠন বা ভলান্টিয়ারিং করার জন্য যেসকল সংস্থার সাথে কাজ করেছেন। সবকিছুই এখানে কর্মসংস্থানের অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করতে পারেন।

এ জন্য যারা বুদ্ধিমান ছাত্র তারা পড়াশোনার পাশাপাশি পূর্ব থেকে বিভিন্ন সংস্থার হয়ে ভলান্টিয়ারিং এর কাজ করেন। এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে যুক্ত থাকে। যেন পরবর্তীতে তাকে এই বিষয়গুলো অন্যদের থেকে এগিয়ে দেয়।

সুতরাং আপনার সিভিটা কে শক্তিশালী করার জন্য কর্মসংস্থান ইতিহাসে আপনার পূর্বের যতগুলো ভলান্টিয়ারিং অভিজ্ঞতা রয়েছে। এবং সামাজিক সংগঠনের সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। সবগুলো সুন্দরভাবে উপস্থাপন করুন।

শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করুন-

যদিও পার্ট টাইম জব এর জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা তেমন বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। যারা মূলত পার্টটাইম চাকরির জন্য হায়ার করে থাকেন। তারা নিজেরাও জানেন পার্টটাইম চাকরির জন্য হাই লেভেলের কাউকে শেয়ার করা যাবে না। এজন্য বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনার পাশাপাশি পার্ট টাইম চাকরি করার সুবিধা পেয়ে থাকেন।

চাকরি করার জন্য আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখা না হলেও। আপনার কি কি বিষয়ে অতিরিক্ত দক্ষতা রয়েছে। এবং আপনার মধ্যে যেকোনো বিষয়ে ইমপ্রুভ করার জন্য কি কি নতুনত্ব ক্রিয়েটিভিটি রয়েছে। সে সম্পর্কে বিশেষ নজর দেওয়া হয়।

তবে এমন না যে আপনি আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা গুলো এখানে উল্লেখ করবেন না। শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে আপনি ইতিমধ্যে কি কি সার্টিফিকেট অর্জন করেছেন? এবং বর্তমানে কোন পজিশনে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন সে সম্পর্কে সুন্দরভাবে বিস্তারিত উল্লেখ করুন।

আপনার কাজ করার স্বপ্ন ও আগ্রহ সম্পর্কে উল্লেখ করুন –

পার্টটাইম চাকরির ক্ষেত্রে আপনাকে হায়ার করার জন্য এ বিষয়গুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, আপনার আগ্রহটা মূলত কিসের উপর। সাধারণত পার্টটাইম চাকরির ক্ষেত্রে যদি ইন্টারভিউতে আপনাকে প্রশ্ন করা হয় আপনি কি টাকার জন্যই চাকরি করতেছেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে আপনি কখনো বলবেন না। আপনাকে বুঝাতে হবে আপনি পরবর্তীতে দক্ষতার সাথে নিজের জীবনকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল জ্ঞান অর্জন করার জন্য। আপনার পড়াশোনার পাশাপাশি পার্ট টাইম জব এর জন্য আগ্রহী।

স্বপ্ন ও আগ্রহ সেক্টরে আপনি যখন আপনার সম্পর্কে উল্লেখ করবেন। এক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই মনোযোগ দিতে হবে আপনি যে সেক্টরেই আবেদন করতে যাচ্ছেন। সেই সেক্টরের সাথে যেন উপযুক্ত হয় এরকম কাজের আগ্রহ ঊষা সম্পর্কে উল্লেখ করা।

পার্ট টাইম জব এর জন্য সিভি রেফারেন্স যুক্ত করুন –

রেফারেন্সের বিষয়টা আমরা মনে করি উক্ত জব এর সাথে পরিচিত কারও নাম উল্লেখ করা। মূলত রেফারেন্সের বিষয়ে আপনি আপনার মা-বাবা ভাই-বোন ছাড়া। অর্থাৎ ফ্যামিলি মেম্বার ছাড়া। আপনার শিক্ষক আপনি যে সকল সামাজিক সংগঠনের কাজ করে থাকেন। সে সংগঠনের উল্লেখযোগ্য কোনো ব্যক্তিকে রেফারেন্স হিসেবে যুক্ত করতে পারেন।

যাকে আপনি আপনার সিভি তে রেফারেন্স হিসেবে যুক্ত করবেন। তাকে অবশ্যই পূর্ব থেকে জানিয়ে দিবেন যে আপনি তাকে আপনার সিভি তে রেফারেন্স হিসেবে যুক্ত করেছেন। এবং কোনো কারণে যদি তাকে জিজ্ঞেস করা হয় আপনার সম্পর্কে। তাহলে আপনার সম্পর্কে যেন একটি পজিটিভ ফিডব্যাক তিনি শেয়ার করেন। সে বিষয়ে আপনি তাকে অনুরোধ করে রাখবেন।

সার্কুলার বাংলাদেশের আজকের আর্টিকেলটি কেমন লেগেছে অবশ্যই আপনার মতামত শেয়ার করতে ভুলবেন না। নিচের কমেন্ট বক্সে আপনার মতামত লিখে আপনি আমাদের জানাতে পারেন। আপনার কমেন্টগুলো আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি আমাদের আপনাদের চাহিদা কে বুঝতে সাহায্য করে। এবং আরো ভাল কনটেন্ট আপনাদের জন্য নিয়ে আসার জন্য আমরা উৎসাহিত হই।

bd blog writer

একজন ইলেক্ট্রিক্যাল বিষয়ে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে সবসময় টেকনোলজি কে অগ্রাধিকার দিতে ভালোবাসি। প্রযুক্তির সাথে এগিয়ে যেতে ও নিজেকে সবসময় আপডেট রাখার জন্য নিয়মিত প্রযুক্তিগত জ্ঞান নিজে অর্জনের পাশাপাশি অন্যদের সাথে শেয়ার করাতে ভালো লাগে। সময় পেলে প্রযুক্তি, ব্যবসা, মার্কেটিং বিষয়ে লিখতে চেষ্টা করি। পেশা যাই হোক, তা হতে লাভবান হতে চাইলে ব্যবসা ও মার্কেটিং জ্ঞান আবশ্যক।

কমেনট বাক্সে আপনার মতামত লিখে জানান