ইন্সটাগ্রাম মার্কেটিং শিখুন | সোস্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কৌশল

thumbnail

ফেসবুক মার্কেটিং সম্পর্কে কমবেশি আমরা সবাই জানি। বর্তমানে মার্কেটিং খুবই শক্তিশালী হলেও ফেসবুকের মতো ইন্সটাগ্রাম মার্কেটিং বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সুন্দর সুন্দর মুগ্ধকর (Glamorous) ছবির জন্য ইন্সটাগ্রাম মার্কেটিং খুব বিখ্যাত। অন্যদিকে বড় বড় সকল সেলিব্রিটিরা আজকাল ফেসবুকের তুলনায় ইন্সটাগ্রামে একটু বেশি সক্রিয় থাকে। এবং বর্তমান সময়ের তরুণ তরুণীরা নিজেদের মুগ্ধকর ছবি সবার সাথে শেয়ার করতে ইন্সটাগ্রামকে বেশি প্রধান্য দিতে শুরু করেছে। কারণ ইন্সটাগ্রামের প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে এটা।

ইন্সটাগ্রাম মার্কেটিং কৌশল শিখতে আজকের লেখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

শুরুতে অবশ্যই আপনাদের মনোযোগ ধরে রাখতে আপনাদের সথর্ক করছি। যেন আপনারা কোনোভাবে আজকের লেখাটিকে অবহেলা না করেন। কারণ আপনি যদি ইন্সটাগ্রাম মার্কেটিং শিখতে চান, তাহলে আপনাকে আজকের লেখা খুবই শক্তিশালী কিছু টিপস এবং ট্রিকস শেখাবে।

কোনটা বেশি সহজ?

আমি যতোটা রিসার্চ করে দেখলাম। রিসার্চের ফলাফল অনুযায়ী আমার কাছে ইন্সটাগ্রাম মার্কেটিং ফেসবুক মার্কেটিংয়ের তুলনায় অনেক সহজ। পরিপূর্ণ একটা প্রোফাইল সেটআপ করে কিছু ছোট ছোট কৌশল প্রয়োগ করতে পারলে এই প্লাটফর্মে মার্কেটিং করে আপনি সফল হতে পারবেন। আজকে আমি এমনকিছু কৌশল আপনাদের শেখাতে যাচ্ছি। এগুলো আপনারা ভালো করে বুঝতে পারলে, আপনি মোটামুটি ইন্সটাগ্রাম মার্কেটিং শিখে যাবেন।

ক্যারিয়ার হিসেবে ইন্সটাগ্রাম মার্কেটিং গ্রহণ করা যাবে কি?

এমন একটা প্রশ্ন অনেকেই করবে আমি তা জানি। এজন্য এই প্রশ্নের উত্তর অবশ্যই দিতে হবে। ইন্সটাগ্রাম মার্কেটিং যেহেতু সোস্যাল মিডিয়া মার্কেটিংয়ের একটা অংশ। সুতরাং এটাকে ক্যারিয়ারের অংশ হিসেবে নেওয়া যায়। তবে শুধুমাত্র ইন্সটাগ্রাম মার্কেটিং মার্কেটিংকে পরিপূর্ণ ক্যারিয়া হিসেবে নেওয়ার চিন্তা করাটা ঠিক হবেনা। কারণ এটি সোস্যাল মিডিয়া মার্কেটিংয়ের মাত্র একটা টুল বা সার্ভিস বলতে পারেন। তাই শুধুমাত্র একটা সার্ভিস নিয়ে ক্যারিয়ার পরিকল্পনা করা যাবেনা। কারণ সবসময় এটার চাহিদা নাও থাকতে পারে।

ইন্সটাগ্রাম-মার্কেটিং
ইন্সটাগ্রাম-মার্কেটিং

তবে মনে রাখবেন আপনি শুধুমাত্র এটা দিয়ে মাসে আয় করতে মাসে $৩০০ থেকে $১০০০ এরও বেশি। আপনি শুধুমাত্র ইন্সটাগ্রাম মার্কেটিংয়ের কৌশল গুলো শিখে বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ শুরু করতে পারেন। যার মধ্যে একটা জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস হচ্ছে ফাইভার।

কাদের জন্য ইন্সটাগ্রাম মার্কেটিং?

ইন্সটাগ্রাম হলো একটা মুগ্ধ করা ছবি ও ভিডিও শেয়ারিংয়ের জায়গা। এখানে যদি আপনি আপনার ব্র্যান্ডটিকে আকর্ষনীয় করে উপস্থাপন করতে পারেন, তাহলে খুব সহজেই ইন্সটাগ্রাম মার্কেটিংয়ে ভালো কিছু করতে পারবেন। যারা কোনো মূহুর্তকে বাস্তব চিত্র দিতে পারেন, এবং ক্রিয়েটিভ তারা এই প্লাটফর্মে সফল হওয়ার বেশি সুযোগ রয়েছে। একটা পণ্য বা সেবাকে আপনি যত আকর্ষনীয় করে প্রদর্শন করতে পারবেন, ততই বেশি বিক্রয় বৃদ্ধির পাবে।

কি কি পণ্য নিয়ে এখানে মার্কেটিং বেশি কাজ করবে?

ফুড ব্যবসা, ফ্যাশন প্রোডাক্ট, মেকআপ, স্টাইলিশ ড্রেস, ফ্যান্সি স্টেশনারি এসব পণ্যের জন্য ইন্সটাগ্রাম মার্কেটিং বেশী উপকারী।  ইন্সটাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সার, রান্না -বান্না, বিউটি ব্লগিং, আবৃত্তি, ফটোগ্রাফি, অভিনয়, নাচ, গানের জন্য ইন্সটাগ্রাম খুবই শক্তিশালী মার্কেটিং প্লাটফর্ম।

ইন্সটাগ্রাম মার্কেটিংয়ের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

এই প্ল্যাটফর্মে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে প্রথম শর্ত হচ্ছে সুন্দর একটা প্রোফাইল সেটআপ করা। ইন্সটাগ্রামে নিজের নাম, ইমেইল বা মোবাইল দিয়ে রেজিষ্ট্রেশন করলেই একটা প্রোফাইল তৈরি হয়ে যায়। কিন্তু প্রোফাইল সেটআপ করতে আপনাকে অনেকগুলো স্টেপ পার করতে হবে। প্রোফাইলের মাধ্যমে আপনার ব্রান্ড এবং পণ্যের পরিচয় ফুটিয়ে তোলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

০১. সম্পর্ক গড়ে তুলন এবং তা বজায় রাখুন:

যত সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তোলা যায়, ততই মানুষের মনকে সহজে জয় করা যায়। মার্কেটিংয়ে সহজে সফলতা পেতে সম্পর্ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন ইনফ্লুয়েন্সার ও বিজনেস প্রোফাইলের যোগাযোগ করুন, তাদের সাথে কোলাবোরেট করুন। খুব সহজে ফলোয়ার বৃদ্ধি করতে সু-সম্পর্ক আপনাকে এগিয়ে দিবে।

০২. নিয়মিত পোস্ট করুন:

প্রতিদিন একটা সময় মেনে পোস্ট করুন। কোন সময়ে আপনার ফলোয়ারা বেশি একটিভ থাকে, তা চিহ্নিত করে ঐ সময় পোস্ট করতে চেষ্টা করুন। সিডিউল মেনে পোস্ট করলে বেশি পোস্ট গুলোর গতি ভালো থাকবে। ফলে বেশি মানুষ পোস্টগুলো দেখবে। অতিরিক্ত পোস্ট করা থেকে বিরত থাকুন। না হয় এতে লাভের পরিবর্তে ক্ষতির পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। কেননা অতিরিক্ত পোস্টে ফলোয়াররা বিরক্ত হয়। প্রতিদিন ২ট বা ৩টি পোস্ট যথেষ্ট।

০৩. সময় বুঝে লাইভে যান:

লাইভে যাওয়ার মাধ্যমে ফলোয়ার্সদের সাথে কানেক্টেড থাকুন। কোন সময়ে বেশি মানুষ একটিভ থাকে, তা ঠিক করে লাইভে যান।

০৪. অন্যদের কন্টেন্ট কপি করে পোস্ট করবেন না। সব সময় অন্যদের থেকে ইউনিক ক্যাপশন দিয়ে পোস্ট করার চেষ্টা করবেন।

০৫. আপনার অডিয়েন্সদের বোঝার চেষ্টা করুন, তারা কি চাচ্ছে এবং তাদের পছন্দ অপছন্দ কি, তা খোঁজে বের করতে কাজ করুন।

০৬. আপনার পণ্য বা সার্ভিসের সাথে মিল রেখে মাঝে মাঝে আকর্ষনীয় কিছু ভিডিও আপলোড করার চেষ্টা করুণ।

০৭. ইন্সটাগ্রাম মার্কেটিংয়ে হ্যাশট্যাগ খুবই শক্তিশালী। আপনার পোস্ট গুলোর রিচ বৃদ্ধি করতে হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করুন। বলা যায় ইনস্টাগ্রামের সমস্ত এলগোরিদম চলে হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করার মাধ্যমে। সঠিক হ্যাশট্যাগ ব্যবহার পোস্ট করতে জানলে আপনি ভালো ফলাফল পাবেন।

০৮. ফলোয়ার্সদের কমেন্টের উত্তর দিন:

সবসময় দ্রুত কমেন্টের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবেন। পুরাতন পোস্ট গুলো যাচাই করতে একদম ভুল করবেনা। যেন কোনো ফলোয়ারের কমেন্টের উত্তর মিস না হয়। সুন্দর কমেন্টের উত্তর আপনার ফলোয়ারকে আপনার প্রতি মনোযোগী করতে সাহায্য করে।

০৯. আপনার প্রতিযোগিদের অনুসরণ করুন:

কারা আপনার প্রতিযোগি তা খোঁজে বের করে, তাদের অনুসরণ করুন। কখনও প্রতিযোগিদের কপি করার চেষ্টা করবেন না। বরং তাদের থেকে সেরা কিছু করার চেষ্টা করুণ।

১০. নতুন ফলোয়ার বৃদ্ধি করুণ:

নতুন ফলোয়ার বৃদ্ধি করতে আপনার টার্গেটেড ফলোয়ারদের ফলো করুন। তারাও আপনাকে ফলো ব্যাক করবে।

১১. পোস্ট শেয়ারের সময় আপনার লোকেশন সহ শেয়ার করুন। এতে আপনার আশেপাশের মানুষের কাছে আপনার পোস্ট গুলো সাজেশন হিসেবে দেখা যায়।

১২. ট্যাগ করতে পারেন:

আপনার পণ্য বা সেবা সম্পর্কিত অন্যান্য জনপ্রিয় প্রোফাইলগুলোকে আপনার পোস্টে নিয়মিত ট্যাগ করুন। এতে খুব দ্রুত আপনার প্রচার হবে।

১৩. ক্রেতাদের রিভিউ পোস্ট করুন। এটা নতুন ক্রেতাদের পণ্য বা সেবা ক্রয় করতে আগ্রহ তৈরি করে।

১৪. নতুন ও পুরাতন ক্রেতাদের জন্য আলাদা অফার দিতে চেষ্টা করুন।

১৫. নাম্বার টিপস আসিতেছে…….😂

Md Thouhidul Islam TAWHIDMd Thouhidul Islam TAWHID
প্রযুক্তিকে ভালোবাসি, তাই প্রযুক্তি নিয়ে লিখি। লেখার মাধ্যমে নিজে শিখি ও অন্যদের শেখানোর চেষ্টা করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back To Top