কিভাবে YouTube থেকে আয় করবেন: নতুনদের জন্য ৬টি টিপস

আমি সম্পূর্ণ বেকার। চাকরি করার জন্য কোন চাকরির সন্ধান পাচ্ছি না। এমন শব্দ ব্যবহার করে বসে থাকার সময় শেষ। কেননা আপনি চাইলে YouTube থেকে বর্তমানে চাকরির বেতন থেকেও বেশি টাকা আয় করতে পারেন।

কিভাবে YouTube থেকে আয় করবেন?

সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আজকের লেখাটি। যারা নতুন ইউটিউবে আসতে চাচ্ছেন বা ইউটিউব কে প্রফেশন হিসেবে নিতে চাচ্ছেন। আপনারা সবাই আমার ৬টি টিপস অনুসরণ করতে পারেন। তবে এটা বলতেই হবে, প্রতিটি মানুষের কিছু ইউনিক কৌশল থাকে। যা প্রয়োগ করে নিজেকে দ্রুত সফল হওয়ার সম্ভাবনার ধারে নেওয়া যায়।

কিভাবে YouTube থেকে আয় করবেন
কিভাবে YouTube থেকে আয় করবেন

সুতরাং আমি আপনাদের অনুরোধ করবো। আমার দেওয়া YouTube থেকে আয় করার ৬টি টিপসের পাশাপাশি অবশ্যই আপনারা আপনাদের বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করতে পারেন। আপনি যখন YouTube এ কাজ শুরু করবেন, তখন অবশ্যই আপনার চিন্তায় বিভিন্ন ক্রিয়েটিভ আইডিয়া আসবে। যেগুলো ব্যবহার করার মাধ্যমে আপনি YouTube থেকে আয় করতে দ্রুত এগোতে পারবেন।

চলুন জেনে নেওয়া যাক YouTube থেকে আয় করার ৬টি টিপস –

১. অর্থবোধক ভিডিও কন্টেন্ট:

আপনি যখন YouTube কে প্রফেশন হিসেবে চিন্তা করছেন, তখন অবশ্যই আপনাকে ভিডিও কন্টেন্ট নিয়ে ৭০ থেকে ৮০ ভাগ চিন্তা করতে হবে। ইউটিউবের সফলতার চাবি হচ্ছে ভিডিও।

Advertisement

কোয়ালিটি সম্মত ভিডিও কন্টেন্ট যদি আপনি আপলোড করতে না পারেন, তাহলে ইউটিউবে সফল হওয়া খুবই কঠিন বিষয় হবে। যদিও নতুন যখন ভিডিও তৈরি ও রেকর্ড করবেন, তখন আপনি একটু নার্ভাস হতে পারেন। তবে কখনও ছেড়ে দেওয়া যাবেনা।

মনে রাখবেন, ছেড়ে দিলেন তো, আপনি হেরে গেলেন।

২. চ্যানেলের নাম ও কাস্টম ইউজার নাম:

আপনি যখন অনেক কষ্ট করে আপনার ইউটিউবের জন্য ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি করছেন। এখন ভিডিও কন্টেন্ট গুলো অবশ্যই আপলোড করতে হবে। কিন্তু কোথায় আপলোড করবেন? ইউটিউবে?

হ্যাঁ, YouTube এ আপলোড করবেন ঠিক আছে। কিন্তু ভিডিও কন্টেন্ট গুলো কার নামে পরিচিত করাবেন, বা কি নাম দিয়ে আপনি আপনার চ্যানেল তৈরি করবেন? এবং কাস্টম ইউজারের নামটি কি হবে? এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আপনাকে ঠিক করতে হবে।

Advertisement

YouTube চ্যানেলের নাম রেজিষ্ট্রেশন করার সময় আপনাকে কিছু বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আসতে হবে।

তা হলো:
  • আপনি কি ক্যাটাগরির ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি করছেন?
  • চ্যানেলের নামটি ভিউয়ারদের জন্য কতটা সহজ হবে?
  • আপনার ব্যবহ্নত নামটি আগে কেউ ব্যবহার করছে কিনা?
  • চ্যানেলের নামটি লিখে দিনে কতজন মানুষ YouTube এ সার্চ করে? ইত্যাদি।

৩. চ্যানেল এবং ভিডিও কিওয়ার্ড –

আপনার নতুন ইউটিউব চ্যানেলটি গ্রো করার জন্য কিওয়ার্ড অত্যেন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কাজ অনুসারে কিওয়ার্ড বিভিন্ন প্রকার হতে পারে। তবে ইউটিউবে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে চ্যানেল কিওয়ার্ড এবং ভিডিও কিওয়ার্ড এর উপর। কিওয়ার্ড হচ্ছে আপনার আপনার নতুন YouTube Channel ও Videos এর বিভিন্ন আত্মীয় স্বজনদের নাম।

অর্থাৎ কিওয়ার্ড হচ্ছে, এমন কিছু শব্দের ব্যবহার করা। যা লিখে ইউটিউবে কেউ সার্চ করলে আপনার চ্যানেল এবং ভিডিও গুলো যেন সবার আগে চলে আসে। ঠিক যেভাবে আপনার আত্মীয় স্বজনদের কাছে আপনার কথা বললে যেভাবে তারা আপনাকে চিনতে পারে। সেভাবে আপনার চ্যানেল এবং ভিডিও কন্টেন্ট গুলোকেও পরিচিত করাকে কিওয়ার্ড বলা হয়।

৪. প্রেজেন্টেশন দক্ষতা –

আপনার প্রেজেন্টেশনের উপর নির্ভর করবে, ভিউয়ার আপনার ভিডিওটি দেখবে কিনা। আপনি যদি YouTube থেকে আয় করতে চান বা YouTube এ সফল হতে চান, তাহলে ভিউয়ারদের ভিডিও দেখার মনোযোগ আপনাকে বৃদ্ধি করতে হবে। ভিউয়ার যদি আপনার ভিডিওটি ভিউ করে কয়েক সেকেন্ড দেখে চলে যায়, তাহলে আপনার ভিডিও এর ডিমান্ড কমে যাবে।

Advertisement

সুতরাং আপনার ভিডিওটি যেন ভিউয়ার দীর্ঘ সময় দেখে সেই মনোযোগ ধরে রাখতে আপনাকে বিভিন্নভাবে প্রেজেন্টেশন দিতে হবে। এভাবে কাজ করতে করতে আপনার প্রেজেন্টেশন দক্ষতা বৃদ্ধি পেতে থাকবে। এবং আপনার ভিডিওর চাহিদাও বৃদ্ধি পেতে থাকবে।

৫. চেষ্টা করুণ ভিডিও কোয়ালিটি বৃদ্ধি করতে:

Advertisement

আপনার প্রেজেন্টেশন খুবই ভালো হয়েছে, এবং ভিডিও টপিকটিও খুবই জনপ্রিয়। কিন্তু আপনার ভিডিও কন্টেন্টটি দেখতে ভালো লাগছে না, তাহলেও আপনার ভিডিও চাহিদা কমতে থাকবে।

সুতরাং ভিডিও কন্টেন্ট গুলোর মান ও রেজুলেশন ঠিক রাখার জন্য ও আরও বৃদ্ধি করার জন্য, ভালো ক্যামেরা ও আপডেট ভিডিও ইডিটিং সফটওয়্যার ব্যবহার করুণ।

৬. নিয়মিত ভিডিও আপলোড করা:

প্রতিটি কাজের জন্য আমাদের একটা নির্দিষ্ট রুটিন থাকা খুবই প্রয়োজনীয়। ইউটিউবে যখন আপনি প্রফেশনাল কাজ করার জন্য আসবেন, তখন অবশ্যই একটা কাজের রুটিন ঠিক করা প্রয়োজন। আপনার চ্যানেলটি অন্যদের থেকে আলাদা করার জন্য আপনি অনেক নিয়ম নীতি অনুসরণ করতে পারেন।

Advertisement

তবে আমি আপনাকে বলবো আপনি চ্যানেলে ভিডিও আপলোড করার জন্য নির্দিষ্ট একটা সিডিউল মেনে চলবেন। এতে আপনার ভিউয়াররা আপনার ভিডিও দেখার জন্য উত্তেজিত থাকবে। এবং ঐ সময়ে ২০% ভিউয়ার আপনার ভিডিও এর অপেক্ষায় থাকবে।

আশাকরি, YouTube থেকে আয় করতে আমার দেওয়া এই ৬টি টিপস বা নিয়ম মেনে চলে কাজ করতে পারলে। আপনি অবশ্যই আশাকরি, YouTube থেকে আয় করার জন্য সফল হবেন। যদি আপনি আমার লেখাটি পড়ে ইউটিউবে কাজ করা শুরু করেন, তাহলে আপনার জন্য শুভকামনা রইলো।

bdbloq site icom

একজন ইলেক্ট্রিক্যাল বিষয়ে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে সবসময় টেকনোলজি কে অগ্রাধিকার দিতে ভালোবাসি। প্রযুক্তির সাথে এগিয়ে যেতে ও নিজেকে সবসময় আপডেট রাখার জন্য নিয়মিত প্রযুক্তিগত জ্ঞান নিজে অর্জনের পাশাপাশি অন্যদের সাথে শেয়ার করাতে ভালো লাগে। সময় পেলে প্রযুক্তি, ব্যবসা, মার্কেটিং বিষয়ে লিখতে চেষ্টা করি। পেশা যাই হোক, তা হতে লাভবান হতে চাইলে ব্যবসা ও মার্কেটিং জ্ঞান আবশ্যক।

বাক্সে আপনার মতামত লিখে জানান