ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করার সেরা ৭টি ওয়েবসাইট

অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করা বা অর্থ উপার্জন করা বর্তমানে বহুল পরিচিত একটি পেশা। দক্ষতা অনুযায়ী অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকারের জব করে ঘরে বসেই আপনি হাজার হাজার ডলার আয় করতে পারেন। আসলেই এটা কি সম্ভব? জ্বি, অবশ্যই সম্ভব। বিশ্বের বিভিন্ন বড় বড় প্রতিষ্ঠান আউটসোর্সিং প্রজেক্টের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সার দ্বারা কাজ করিয়ে নিচ্ছে। এদের মধ্যে জনপ্রিয় কিছু প্রতিষ্ঠান হচ্ছে এয়ারবিএনবি, ড্রপবক্স, ইত্যাদি।

এই পোস্টে আমি অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করার সবচেয়ে জনপ্রিয় সাইটগুলোর মধ্য থেকে ৭টি সবার প্রিয় ওয়েবসাইট নিয়ে আলোচনা করছি। বর্তমানে অনেকগুলো মার্কেটপ্লেস রয়েছে যেখানে কাজ করে ফ্রিল্যান্সাররা ইনকাম করতে পারেন। তবে অধিকাংশ মার্কেটপ্লেস ফ্রিল্যান্সারদেরকে বিভিন্নভাবে ঠকিয়ে দেয়। এখানে আমরা যে সাইটগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি এই সাইটগুলোতে কাজ করলে আপনি কখনো প্রতারিত হবেন না।

ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করার সেরা ৭টি ওয়েবসাইট
ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করার সেরা ৭টি ওয়েবসাইট

আমাদের আলোচিত সাতটি মার্কেটপ্লেস ফ্রিল্যান্সারদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। মার্কেটপ্লেসগুলোতে সবচেয়ে সুবিধাজনক হচ্ছে আপনার উপার্জিত টাকা উত্তোলন করা। আপনি যে কোনো ব্যাংক বা অনলাইন পেমেন্ট পদ্ধতির মাধ্যমে মার্কেটপ্লেসগুলো থেকে আপনার উপার্জিত টাকা সহজে উত্তোলন করতে পারবেন।

১. আপওয়ার্ক ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইট – upwork.com

যদি প্রশ্ন করা হয়, বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং সাইট কোনটি? তাহলে আমি সহজে উত্তর দিয়ে দিব ‘আপওয়ার্ক’। কেননা, আপওয়ার্ক খুবই জনপ্রিয় একটি মার্কেটপ্লেস। আপওয়ার্ক প্রথমত ওডেস্ক নামে পরিচিত ছিল। ওডেক্স নাম দিয়ে এরা কার্যক্রম শুরু করে ছিলেন। পরে ২০১৫ সালে সাইটটি ওডেস্ক নাম পরিবর্তন করে আপওয়ার্ক নামটি ব্যবহার করেন।

বর্তমান সময়ের জন্য এটি ফ্রীলান্স মারকেটপ্লেস সে খু্বই দক্ষতার সাথে এগিয়ে যাচ্ছে। বলতে গেলে  আপওয়ার্ক হচ্ছে বর্তমানে একটি জনপ্রিয়তার  শীর্ষে মার্কেটপ্লেস। আপওয়ার্ক  ফ্রিল্যান্সারদের কে যেভাবে সিকিউরিটি প্রদান করে থাকে। অন্যান্য মার্কেটপ্লেসগুলো এখনো আগের মতো উন্নত হতে পারেনি।

২. ফাইভার – fiverr.com

ফাইভার এ ৫ ডলার থেকে শুরু করে ভাল অ্যামাউন্টের প্রজেক্ট প্রতিনিয়ত পোস্ট করা হয়। লোগো ডিজাইন করে দেওয়া, ভয়েস রেকর্ড করে দেওয়া, বিভিন্ন ওয়েবসাইটের জন্য আর্টিকেল লেখা, প্রভৃতির জন্য ফাইভার অত্যন্ত জনপ্রিয়। বায়াররা সরাসরি ফ্রিল্যান্সার খোঁজ করেও প্রজেক্ট অফার করেন এই সাইটে। 

 কম টাকার বিনিময়ে দ্রুত এবং সেরা সার্ভিস পাওয়ার লক্ষ্যে অধিকাংশ বায়াররা ফাইবার এর মধ্যেই কাজ দিতে পছন্দ করেন। নতুন কোন ফ্রিল্যান্সার যখন মার্কেটপ্লেসে কাজ শুরু করতে প্রস্তুতি নেন,  তখন  তারা ফাইবার এর মাধ্যমে প্রাথমিক কাজ শুরু করেন। এটি সবচেয়ে ভালো খবর। ফাইবার একমাত্র নতুন ফ্রিল্যান্সারদের কে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকে।

এজন্য যারা নতুন ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে যাচ্ছেন, তাদের জন্য পরামর্শ হচ্ছে। আপনি অন্যান্য মার্কেটপ্লেসের নিজের প্রোফাইল তৈরি করার পূর্বে প্রাথমিকভাবে ফাইবারে কাজ করেই নিজের দক্ষতা ঝালাই করে নিন। এবং নিজের একটা শক্তিশালী পোর্টফোলিও তৈরি করুন।

ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখবো?

তিনটি ধাপে আপনাকে ফ্রিল্যান্সিং শেখা শুরু করতে হবে। কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং শিখবো সে বিষয়ে প্রশ্ন করার চেয়ে আপনি শুরু করেছেন কিনা তা খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথমে আপনি একটি নির্দিষ্ট বিষয় ঠিক করুন। যে বিষয়ে আপনি ফ্রিল্যান্সিং করতে চাচ্ছেন।

দ্বিতীয় ধাপে আপনি আপনার নির্ধারিত বিষয় সম্পর্কে বেসিক জ্ঞান অর্জন করুন ইউটিউব এবং গুগল থেকে। 

তৃতীয় ধাপে একজন দক্ষ হিসেবে নিজেকে করার জন্য। কোন একটা আইটি প্রতিষ্ঠান থেকে আপনার পছন্দের সিলেক্টেড বিষয়ের উপর একটা কোর্স করে ফেলুন।

কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং একাউন্ট খুলব?

ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ পরিপূর্ণভাবে শেখার পরে আপনাকে মার্কেটপ্লেসের নিজের প্রোফাইল তৈরি করতে হবে। অর্থাৎ ফ্রিল্যান্স প্রোফাইল তৈরি করতে হবে। কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং একাউন্ট খুলবেন এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য আপনি ইউটিউবে কোন টিউটোরিয়াল দেখতে পারেন।

৩. ফ্রিল্যান্সার ডটকম ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইট – freelancer.com

ফ্রিল্যান্সার ডটকম হচ্ছে একদম প্রথম সারিতে থাকা একটি অনলাইন ভিত্তিক ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস। এখানে ফিক্সড প্রাইস এবং ঘন্টা হিসেবে বিভিন্ন রেটের প্রজেক্ট পাওয়া যায়। ফ্রিল্যান্সার ডটকম এ প্রচুর অনলাইন জব রয়েছে। এবং ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যাও এখানে অনেক বেশি তাই প্রতিযোগিতাও একটু বেশি।

আমরা ঠিক একটু আগে আলোচনা করেছি। যদি আপনি ফ্রিল্যান্সার ডটকম এর মত মার্কেটপ্লেসগুলোতে সার্ভিস প্রদান করতে আসেন। তাহলে প্রাথমিকভাবে আপনাকে অনেক বেশি কষ্ট করতে হবে আপনার প্রজেক্ট বিজয়ী হওয়ার জন্য। এজন্য আপনি প্রাথমিকভাবে ছোট ছোট মার্কেটপ্লেসগুলোতে কাজ করে নিজের দক্ষতা কে এগিয়ে নিন।

৪. পিপল পার আওয়ার – peopleperhour.com

লন্ডন, যুক্তরাজ্য ভিত্তিক পিপল পার আওয়ার হচ্ছে অনলাইনে আয় করার বেস্ট বা অন্যতম জনপ্রিয় একটি সাইট। এখানে ফিক্সড প্রাইস ও ঘন্টা হিসেবে বিভিন্ন রেটে প্রজেক্ট পাওয়া যায়। পিপল পার আওয়ার থেকে আয়কৃত অর্থ সহজে তোলার জন্য পেপাল, স্ক্রিল, পেওনিয়ার এবং ব্যাংক ট্র্যান্সফার পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন।

পিপল পার আওয়ার এর সবচেয়ে জটিল বিষয় হচ্ছে আপনার প্রোফাইল পিকে ভেরিফাই করা। আমি নিজেও পিপল পার আওয়ারে  কাজ করার জন্য প্রোফাইল তৈরি করেছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমার প্রোফাইলটি আমি ভেরিফাই করতে সক্ষম হয়নি। পিপল পার আওয়ার কোন ফ্রিল্যান্সারকে অনুমতি দেওয়ার জন্য তার দক্ষতা ভেরিফাই করে থাকে। এক্ষেত্রে পিপল পার আওয়ার প্রোফাইল ভেরিফাই সহজে পাওয়ার জন্য আপনার প্রোফাইলের যে তথ্যগুলো ব্যবহার করবেন তা যেন খুব বিশ্বস্ত ও গ্রহণযোগ্য হয়। 

৫. নাইনটিনাইন ডিজাইনস – 99designs

আপনি যদি একজন দক্ষ ফ্রীল্যান্স ডিজাইনার হয়ে থাকেন, তাহলে 99designs.com আপনার জন্য বেশ ভালো একটি কাজের জায়গা হতে পারে। এখানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বায়াররা প্রজেক্ট অফার করেন। এবং প্রফেশনাল ডিজাইনারদের দ্বারা লোগো, ওয়েবসাইট ও অন্যান্য গ্রাফিক ডিজাইনের কাজ করিয়ে নেন। 

99designs থেকে আপনার অর্জিত টাকা সহজে তোলার জন্য পেওনিয়ার এবং পেপাল দুটি জনপ্রিয় পেমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করতে পারবেন। 99designs.com যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্র্যানসিস্কো ভিত্তিক একটি বহুজাতিক কোম্পানি, যা অনলাইন ডিজাইনের জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত।

৬. গুরু ডটকম – guru.com

গুরু ডটকম হচ্ছে একটি American ফ্রিল্যান্সিং সাইট, যেখানে ফিক্সড প্রাইস এবং ঘন্টা হিসেবে কাজ পাওয়া যায়। গুরু ডটকম থেকে অর্থ উত্তোলনের জন্য পেপাল, পেওনিয়ার ও যেকোনো ব্যাংক ট্র্যান্সফার পদ্ধতি ব্যবহার করে সহজ টাকা নিতে পারেন।

৭. বিল্যান্সার ডটকম – belancer.com

বিল্যান্সার ডটকম হচ্ছে একটি বাংলাদেশি জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্ম যেখানে বিভিন্ন প্রকার আমাদের বাংলাদেশি প্রজেক্ট পাওয়া যায়। বিল্যান্সার ডটকম দেশের বাইরে থেকেও ক্ল্যায়েন্ট ও ফ্রিল্যান্সার আনার পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছে। বিল্যান্সার ডটকম এ ১০০ টাকার প্রজেক্ট থেকে শুরু করে অনেক বড় অ্যামাউন্টের প্রজেক্টও আসে। বর্তমানে এখানে শুধু ফিক্সড প্রাইসের কাজের অফার আছে। আপনি চাইলে বিল্যান্সারে রেজিস্ট্রেশন করে আপনার Freelancing Career শুরু করতে পারেন।

belancer.com এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে। বিল্যান্সারের মাধ্যমে আয়কৃত টাকা আপনি বাংলাদেশের ব্যাংক ট্র্যান্সফার, বিকাশ, অথবা সরাসরি বিল্যান্সার অফিসে গিয়ে সংগ্রহ করতে পারেন।

bd blog writer

একজন ইলেক্ট্রিক্যাল বিষয়ে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে সবসময় টেকনোলজি কে অগ্রাধিকার দিতে ভালোবাসি। প্রযুক্তির সাথে এগিয়ে যেতে ও নিজেকে সবসময় আপডেট রাখার জন্য নিয়মিত প্রযুক্তিগত জ্ঞান নিজে অর্জনের পাশাপাশি অন্যদের সাথে শেয়ার করাতে ভালো লাগে। সময় পেলে প্রযুক্তি, ব্যবসা, মার্কেটিং বিষয়ে লিখতে চেষ্টা করি। পেশা যাই হোক, তা হতে লাভবান হতে চাইলে ব্যবসা ও মার্কেটিং জ্ঞান আবশ্যক।

কমেনট বাক্সে আপনার মতামত লিখে জানান