1 min read

স্বপ্ন যাদের লেখক হবার – Md. Omar khan

স্বপ্ন যাদের লেখক হবার, মুলত তাদের জন্য আজকের এই লিখা। কিভাবে একজন ভালো লেখক হওয়া যায় তার একটি ছোট্ট-সুন্দর গাইডলাইন হিসেবে থাকছে আজকের আলোচনা।

আমরা সবাই কম বেশি লেখালেখি করেছি, ছোট বেলায় কবিতা, ছড়া, ছোট গল্প ইত্যাদি অনেক জনেরই লিখা।

কিন্তু লেখক হবার স্বপ্ন আমরা ক’জন দেখেছি?

আমরা যারা এখনো লিখি, স্বপ্ন দেখি ক্যারিয়ার হিসেবে লেখালেখিকে পেশা হিসেবে নেওয়া।

তাদের অনেক সময় অনেক রকমের বাধার সম্মুখীন হতে হয়।

আজ আলোচনা করবো, একজন লেখকের কি কি সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়? সমস্যার কিভাবে সমাধান করবো? এবং এই পেশা কতটুকু সম্ভাবনাময়?

সমস্যা সমূহ :

লেখালেখি করতে গিয়ে আমরা অনেক সময় অনেক সমস্যায় পড়ি। ভিন্ন ভিন্ন লেখার প্রেক্ষাপটে সমস্যাও ভিন্ন ভিন্ন হয়। নিচে কয়েকটি প্রাথমিক সমস্যার কথা আলোচনা করছি।

১। পড়ার অভ্যাস কম গড়া:

তিক্ত হলেও সত্য যে, আসলে আমরা খুব কম পড়ি, পড়ার অভ্যাসটা আমাদের খুব কমই। ছাত্রজীবনে যারা আছেন তাদের একাডেমিক পড়াশোনার বাহিরে খুব কমই পড়া হয়।

চাকরিজীবি যারা আছে তাদেরও পড়াশোনায় খুব কমই দেখা যায়।

একজন ভালো লেখক হবার আগে, অবশ্যই অবশ্যই একজন ভালো পাঠক হতে হবে।

২। অতি আশা করা:

আমরা কোনো একটা কবিতা, ছড়া, লিখার পর ম্যাগাজিন, পত্রিকা, ওয়েব সাইটে ইত্যাদি জায়গায় চলে যায়।

আমরা এই আশা নিয়ে থাকি যে, আমার লিখাটি প্রকাশ হবে, প্রকাশ করবে এই পত্রিকা, এই ম্যাগাজিন।

অনেক সময় হয় কি, লেখক আহ্বানের কোনো বিজ্ঞান পাইলেই কেবল লিখি, এদিকে সারা বছর কোনো খবর থাকে না।

৩। হতাশ হওয়া:

আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে আমরা অল্পতেই হতাশ হয়ে পড়ি।

আমাদের লিখা যখন ২/১ টি পত্রিকা, ম্যাগাজিন থেকে বাতিল করা হয় বা ছাপা না হয় তখন আমরা হতাশ হয়ে পড়ি।

এই সময় আমরা লেখা বন্ধ করে দিই, লেখার উৎসাহ হারিয়ে ফেলি। যেটা আমাদের উচিত না।

৪। দূরদর্শিতার অভাব:

আমাদের অনেকেই জানি না যে, একজন ভালো লেখকের ভবিশ্যত সম্পর্কে।

লেখালেখিতেও যে একটা ভালো ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব সেই ধারণা আমাদের অনেকেই রাখি না। এখানেই আমাদের দূরদর্শিতার অভাব।

সমাধান:

উপরে যেসব সমস্যা আলোচনা করছি তা প্রাথমিক পর্যায়ের সমস্যা মাত্র। তবে এসব সমস্যা যদি আপনি কাটিয়ে উঠতে পারেন। তাহলে লেখক হবার স্বপ্ন পূরণ আপনার হবেই। ইনশাআল্লাহ।

১। অধিক পড়ার অভ্যাস গড়া:

আমাদের বেশি বেশি পড়ার অভ্যাস করতে হবে। বেশি পড়ার মাধ্যমে আমাদের শব্দ ভান্ডার প্রসস্থ হবে।

আর যার শব্দ ভান্ডার যত বেশি প্রসস্থ তার কথা, লেখা সবগুলো তত বেশি মাধুর্য।

২। হতাশ হওয়া যাবেই না:

আমি লেখক হিসেবে কোথায় পরিচয় দিতে সাহস পাই না। তবে আমি লিখালিখি করি এটা বলি অনেক জায়গায়, যেখানে বলার প্রয়োজন পড়ে।

২০১৩ সালের কোনো এক বৃষ্টির দিনে ক্লাসে বন্ধুর সাথে বসে আমার প্রথম কবিতা লিখা হয়।

এরপর থেকে নিয়মিত লিখা হতো ছড়া, কবিতা, ছোট গল্প, প্রবন্ধ।

২০১৩-২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত আমার কোনো লিখা কোথায়ও প্রকাশিত হয় নি। তবুও লিখা বন্ধ করিনি। ভালো লাগতো তাই লিখতাম।

অনেক সময় এমন হতো যে, কাউকে একটু পড়তে বললেও, ইতিবাচক কিছু সাড়া পেতাম না। নিজে লিখতাম নিজে পড়তাম।

একবার আইআইউসি তে নবীন লেখকদের নিয়ে একটি প্রোগ্রাম করেন, ওখানে একটা ইভেন্ট ছিলো “স্বরচিত কবিতা আবৃতি”।

যখন নাম জমা দিছি তখনও আমি কবিতা রেডি করিনি। প্রথম জন যখন আবৃত্তি করতেছেন তখন আমি কবিতা লিখা শুরু করছি।

আমি ৪র্থ নাম্বারে আমার নাম আসবে। তৃতীয় জন যখন শেষ করলেন তখন আমি কবিতা লিখা শেষ করে মঞ্চে উঠি।

কবিতাটি আপনাদের কাছে উপস্থাপন করছি,

এসো হে নবীন, এসো হে তরুণ – বারে বারে ডাকছি তোমায়, কলুষিত এই সমাজকে সাজাও তোমার কবিতার খাতায়।

তোমার কলমে ফিরে আসু নজরুলের বিদ্রোহী কবিতা। তোমার হৃদয়ে জেগে উঠুক হেরার সোনালী সবিতা।

কলম দিয়ে লিখে যাও তুমি                  হোক যত বদনাম,                তোমার কাছেই আছে সমাধান              খুলে দেখ আল-কুরআন।

এটা ২০১৭ সালের কথা। ২০১৩-১৭ এর মধ্যে এটাই ছিল আমার লেখালেখির একমাত্র প্রাপ্তি। 

এরকম হাজার হাজার লেখক আছেন যাদের ভালো লিখা কোথায় প্রকাশিত হচ্ছে না।তবুও লিখে যাচ্ছেন।

আমার প্রথম লিখা প্রকাশিত হয় ২০১৮ সালের একেবারই শেষের দিকে। ৫ টি বছর পর আমার প্রথম প্রকাশিত লিখাটি জানিনা কতজনকে শেয়ার করছি।

এখন bdbloq.com এ আমার প্রায় ১৫০ টি লিখা প্রকাশিত হয়েছে। কয়েকটি ইংরেজি ওয়েবসাইটসহ মিলে আমার অনধিক ২০০ লিখা প্রকাশিত হয়। 

প্রথম লেখা প্রকাশ হতে আমি ৫ টি বছর অপেক্ষা করছি। আপনাদেরও বলবো অপেক্ষা করুন। একদিন আপনাদেরও সুযোগ আসবে। 

কয়েকটি ম্যাগাজিন, পত্রিকা থেকে রিজেক্টড হয়ে হতাশ হবেন না। লিখা বন্ধ করবেন না।

সফলতার শীর্ষে আছে এমন লেখকদের পেছনেও এরকম হতাশার শত শত গল্প আছে। 

৩। দুরদর্শিতার পরিচয় দিন :

আপনার দৃষ্টি ওখানে দিবেন না, যেখানে আপনার এক সিনিয়র শত শত কবিতা, গল্প লিখছেন, উপন্যাস লিখছেন।

কিন্তু আজ ওনার কোনো লিখা কোথাও প্রকাশ হয়নি। এখন একজন বেকার। বেকারত্বের বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছেন। 

বরং দৃষ্টি ওখানে দেন, যেখানে একজন মা বাবা হারা দূখূ মিয়া একটি স্বাধীন দেশের জাতীয় কবি।

এমন কি যুগের পর যুগ ধরে ওনার কবিতা, গান, প্রবন্ধ আজও মানুষের মনের চাহিদা মেটান। 

মৃত্যুর বহু যুগ পরেও আজও মানুষ শ্রদ্ধার সাথে স্বরণ করছেন কবি আল্লামা ইকবাল (রহ) কে, স্বরণ করছেন ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্কে, স্বরণ করছেন শেখ সাদী (রহ) কে। 

৪। শুরু করুন এখনই:

লিখা আজকে থেকে না এখন থেকেই শুরু করুন। কোনো একটি ম্যাগাজি, পত্রিকায় বা ওয়েব সাইটে লেখা দিন। লিখতে থাকুন, অভ্যাস করুন, শিখুন, জানুন।

আপনারা চাইলে bdbloq.com এর মত আরো ওয়েব সাইট আছে যেখান আপনারা নিয়মিত লেখা দিতে পারেন।

চাইলে প্রাথমিক পর্যায়ে bdbloq.com এর সাথে থেকে দক্ষতা বাড়াতে পারেন।

সম্ভাবনাময় লেখক পেশা :

স্বপ্ন যাদের লেখক হবার , তাদের সম্ভাবনা আলোচনা করার প্রয়োজন পড়বে বলে মনে হয় না। তবুও লিখার সৌন্দর্যের জন্য লিখা।

১। আন্তর্জাতিক মানের পেশা:

আপনি জেনে হয় তো অবাকও হতে পারেন যে, যারা লিখালিখি করেন। মানে ব্লাগ, আর্টিকেল লিখেন ওনাদেরকে বিশ্বের টপ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সাংবাদিকতার সনদ প্রদান করেন।

আপনার যদি কোনো জাতীয় বা আন্তর্জাতিক পত্রিকায় কয়েকটি কলাম, অথবা বিভিন্ন ওয়েব সাইটে আপনার প্রকাশিত কলাম থাকে।

আপনিও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সনদের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এতে কিছু নিয়ম অবশ্যই আপনাকে অনুসরণ করে যেতে হবে।

২। আর্থিকভাবে লাভবান :

লেখালেখি যারা করেন ওনারদের প্রথম দিকে শুধু দক্ষতা বাড়াতে একটু সময় লাগে। দক্ষতা অর্জনের পর ১ টা লিখে থেকেও কয়েক লাখ টাকা আয় করা সম্ভব। 

কিভাবে সম্ভব তার ব্যাখ্যা অন্য কোনো লেখায় দিবো।

৩। স্বাধীন পেশা :

পৃথিবীতে যে কয়টি স্বাধীন পেশা রয়েছে তার মধ্যে লেখালেখি সবার শীর্ষে। এই কথাটি আমার একান্ত ব্যক্তিগত অভিমত। 

কারণ হিসেবে বললে, আপনি বাসায় বসে, অফিসে বসে, ব্যবসার ফাঁকে এই পেশাতে সময় দিতে পারছেন।

এমন কি আপনি একটি লেখা একাধিক মিডিয়ায় বিক্রি করতে পারেন, এতে কাউকে আপনার কৈফিয়ত দিতে হবে না।

৪। পেসিভ ইনকাম :

লেখালেখি করে আপনি পেসিভ ইনকাম করতে পারবন। যেমন এই লিখাটি আমি আজ না ঘুমিয়ে লিখে পাবলিস করলাম।

কালকে আমি ঘুমাবো অন্যজন না ঘুমিয়ে পড়বেন। এরকম ২ দিন ৪ দিন ১৫ দিন ১ মাস, মাসের পর বছর ধরে পড়বে, লেখাটিতে বিজ্ঞাপন দেখাবে।

involved in a criminal case
স্বপ্ন যাদের লেখক হবার

বিজ্ঞাপন থেকে আমার আয় আসছে, আসবে। যতদিন আমি লিখাটি ডিলেইড না করি ততদিন ইনকাম বন্ধ হবে না৷ এটি পেসিভ আয়।

৫। পদচিহ্ন :

স্বপ্ন যাদের লেখক হবার, তাদের পদচিহ্ন থাকবে প্রতি যুগে, প্রতি কালে। তা যুগের পর যুগ, কালের পর কাল।

আমাদের অনেক প্রতিবাদী, বিদ্রোহী, বিপ্লবী লেখক আছেন, যাদের কে আমরা স্বরণ করি। যাদের লেখা অন্যয়, জুলুম, অত্যচারের বিরুদ্ধে সত্যের পক্ষে ছিল।

একজন লেখকের এই সুযোগটা আছে, নির্যাতিত মানুষের হয়ে কলম ধরার। মজলুম মানুষের হয়ে কাজ করার।

এর বদৌলতে, আপনার একটা যদি আল্লাহর কাছে প্রিয় হয়ে যায়, তাহলেও আপনার দুনিয়া যেভাবে সফল আপনার আখিরাতও সেভাবে সফল।

আপনার একটা লিখা যেভাবে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট, তেমনি কঠিন বিচারের দিন নাজাতের উসিলা হওয়ার জন্যও যথেষ্ট। 

সবশেষে বলবো, স্বপ্ন যাদের লেখক হবার, তারা ২/১ বছরের জন্য আসবেন না। লম্বা একটা সময় নিয়ে আসেন। ইনশাআল্লাহ আমি সফল হবেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *