ডিজিটাল মার্কেটিং এ কি কি শিখবো

ডিজিটাল মার্কেটিং এসময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় অনলাইন সেক্টর। অনেকেই জানেন না, ডিজিটাল মার্কেটিং -এ কি কি থাকে?

নতুনরা শিখতে গিয়ে হ-য-ব-র-ল করে ফেলেন। চলুন আজ জেনে নেওয়া যাক, “ডিজিটাল মার্কেটিং এ কি কি শিখবো?

ডিজিটাল মার্কেটিং বিশাল একটি সেক্টর। এর অধীনে ডজন খানেক শাখা প্রশাখা রয়েছে। চলুন এক নজরে দেখে নিই:

১। Search Engine optimization (SEO) :

Search Engine optimization (SEO) হলো: ডিজিটাল মার্কটিং এর অত্যন্ত চাহিদা সম্পন্ন একটি শাখা।

কারণ, এসইও (SEO) পৃথিবীর প্রতিটি কোম্পানি, যাদের অনলাইন প্লাটফর্ম আছে সবাই নিয়োগ দেন।

একটি ব্যবসা বা সেবা প্রতিষ্ঠানকে পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য এসইও (SEO) এর বিকল্প নেই।

বতর্মানে একটি কিন্ডারগার্টেন থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় আর রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে এয়ারলাইন্স কোম্পানি পর্যন্ত প্রতি প্রতিষ্ঠানের একটি অনলাইন প্লাটফর্ম থাকে।

হোক সেটা ফেসবুক, ইউটিউব অথবা হোক ওয়েব সাইট। কোনো না কোনো অনলাইন প্লাটফর্মের মাধ্যমে নিজের প্রচার করে।

আর প্রতিটি অনলাইন প্লাটফর্মকে সার্চ ইঞ্জিনের টপে রাখার জন্য সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজ করার কোনো বিকল্প নেই।

আর Search Engine Optimization (SEO) এই কাজটি করে থাকে। তাই এর গুরুত্ব অত্যাধিক।

২। Social Media Marketing :

আপনি যদি অনলাইনে কাজ করেন এমন কোনো বন্ধু বা পরিচিত কাউকে জিজ্ঞেস করেন। যে, ডিজিটাল মার্কেটিং এ কি কি শিখবো? উত্তর অবশ্যই SMM – Social Media Marketing এর কথা বলবেন।

Social Media Marketing বলতে বাংলাদেশ ও ভারতে সবার উপরে থাকে ফেসবুক মার্কেটিং।

ফেসবুক পেইজ দিয়ে মার্কেটিং করে প্রতি মাসে হাজার হাজার ডলার আয় করছেন এমন আছে।

ফেসবুক AdAds manager, Ads campaign এর কাজ শিখে মার্কেট প্লেস থেকে হাজার হাজার ডলার আয় করা সম্ভব।

আয় করছেন এমন মানুষের সংখ্যা বাংলাদেশের মধ্যেও লাখ ছাড়িয়েছে। কাজ অনেক দক্ষতার সাথে শেখা অতীব জরুরি।

৩। ইউটিউবিং:

এই লিখাটির পাঠকদের ইউটিউবিং মার্কেটিং এর গুরুত্ব ও সম্ভবনা সম্পর্কে বলার একেবারেই দরকার পড়বে না।

আপনি একটু সার্চ করে ফাইবার ইউটিউব রিলেটেড গিগগুলো দেখলে, সেখানে একটি ইউটিউব চ্যানেল খোলে দেয়ার জন্য ৫০ ডলার থেকে ৩০০ ডলার পর্যন্ত চার্জ করে।

এখানে একটি বিষয় বলা রাখা জরুরি যে, ৫০ ডলারের কাজের মান আর ৩০০ ডলারের কাজের মান কখনো সমান হবে না।

সুতারাং আপনার কাজের মান যত ভালো হবে, আপনার চাহিদাও তত বাড়তে থাকবে। চাহিদা সাথে সাথে মূল্য ও বেড়ে যাবে।

আর আপনার যদি ফ্রিল্যান্সিং করার ইচ্ছে না থাকে, তাহলেও কোনো সমস্যা নেই। মোবাইল দিয়ে একটি প্রফেশনাল ইউটিউব চ্যানেল খুলুন। আপনার পছন্দের একটা নিস বাছাই করুন।

এবার ভিডিও তৈরি করুন। মোবাইল দিয়ে অপটিমাইজ করুন সেই ভিডিও। এবং নিয়মিত আপলোড করুন। অবশ্যই ইনশাআল্লাহ সফলতা আসবে।

৪। ইমেইল মার্কটিং:

ডিজিটাল মার্কেটিং এর আরেকটি অত্যাধিক চাহিদা সম্পন্ন শাখা হলো ইমেইল মার্কটিং। বিশেষ করে ইউরোপীয় দেশগুলোতে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

ইমেইল মার্কেটিং আমার কাছে ডিজিটাল মার্কেটিং এর সবচেয়ে সহজ কিন্তু কার্যকরী শাখা মনে হয়।

কারণ আপনি যদি ১০০ জনকে ইমেইল করেন, তারমধ্যে ৯০ জনই ইমেইল টা পড়ে দেখবেন।

মানে ৯০% মানুষ তাদের ইমেইল চেক করেন। মেইলটা পড়েন। সুতারাং আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে ইমেইল মার্কেটিংকে সহজ ও অত্যাধিক কার্যকরী বলবো।

৫। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং :

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে একটু বলি,
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হলো এমন এক ধরনের মার্কেটিং যা, আপনার ফেসবুক, ইউটিউব, ওয়েবসাইট ইত্যাদি প্লাটফর্মগুলোর মাধ্যমে আমার পণ্য প্রচার করবেন।

আর আপনার মাধ্যমে আমার যত বিক্রি হবে, তার একটি অংশ আপনি পাবেন। এটি ১০-২০% এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। এটিই হলো অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং।

আজকাল পুরো পৃথিবী জুড়ে ডিজিটাল মার্কেটিং এর এই শাখাটি তরুণ তরুণীদের কাছে বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

জনপ্রিয় হওয়ার অনেকগুলো কারণের একটি কারণ হলো, এটা সম্পূর্ণ ঝুঁকি মুক্ত। কারণ এতে কোনো ধরনের ইনভেস্ট করতে হয় না।

“ডিজিটাল মার্কেটিং এ কি কি শিখবো ” এই লিখাটিতে যে ৫ টি বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি, এখান থেকে শুধু একটি বিষয় ভালোভাবে আয়ত্ব করুন।

এখান থেকে একটি বিষয় ভালোভাবে শিখতে পারলে আপনাকে অনলাইন ইনকাম নিয়ে আর ভাবতে হবে না। আপনার নিজস্ব একটি ওয়েবসাইট করেও কাজ করতে পারবেন।