এটি.এম. পেয়ারুল ইসলাম: একটি রাজনৈতিক প্রেরণার পিরামিড

আপনি বা আমি একটা কাজের পেছনে কত বছর শ্রম দিয়েছি? ১, ২,  ৩ বা ৫ বছর তারপর সফলতা না আসলে ডাস্টবিনে নিক্ষেপ করেছি।

আমরা আজ এমন এক মহৎ মানুষের সম্পর্কে জানতে চলছি, যিনি ১ বছর ২ বছর ৩ বছর বা ৫ বছর নয় গত  ৩২ টা বছর অনবরত প্রচেষ্টা করেছেন জনপ্রতিনিধি হয়ে দেশের সেবা করার জন্য।

একের পর এক তাকে ব্যর্থ হয়েছেন, উঠে দাঁড়িয়েছেন, এভাবে ৩২ টা বছর প্রচেষ্টার পর এমন কিছু তিনি অর্জন করেছেন, যা কেউ কখনো কল্পনাও করতে পারেন নি।

এসব তো বললাম চেষ্টা, অধ্যবসায়ের গল্প।
এবার চলুন তার নৈতিকতা নিয়ে আলোচনা করি।

এটি.এম.পেয়ারুল ইসলাম ভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে যেসব লোভনীয় অফার পেয়েছেন সেগুলোর কথা আলোচনা করলে হয় তো একটি মহাকাব্য হবে।

শুধু একটা উদাহরণ দেওয়া যাক, তিনি ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগে মনোনয়ন পদ প্রত্যাশী ছিলেন।

কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ তাকে মনোনয়ন দেন নি। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এসেছেন। তার জয়টা শতভাগ নিশ্চিত ছিল।

কিন্তু তিনি তার সেই স্বপ্নকে বির্সজন দিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন শুধু নৌকার বিজয়ের জন্য। 

আপনি আমি হলে কি করতাম? শতভাগ জয়ী জেনে আমাদের নীতির উপর কখনো ঠিকে থাকা সম্ভব হতো? কখনোই না, সবার পক্ষে এটা সম্ভব নয়।

তিনি এটি.এম.পেয়ারুল ইসলাম বলে এত বড় বির্সজন দেওয়া সম্ভব ছিল।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাই তো বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শিক কর্মীরা অভিমানী হয়, মুনাফেক হয় না।

এতক্ষণ যাকে নিয়ে বললাম তিনি হলে বৃহত্তর চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সম্মানিত চেয়ারম্যান এটি.এম.পেয়ারুল ইসলাম।

বাংলাদেশের যে গুটিকয়েক পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ আছেন তাদের মধ্যে এটি.এম.পেয়ারুল ইসলাম জায়গায় করে নিয়েছেন রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকে।

১৯৯০ সালে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ উপজেলা  ফটিকছড়ি থেকে নির্বাচিত সর্বকন্ষ্ঠি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তখন তাঁর প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ৭ হাজার ৭২৯।

সংসদ সদস্য না হওয়া সত্ত্বেও বিগত দিনে  তিনি ফটিকছড়িবাসীর জন্য যা করেছেন, কেউ ফটিকছড়ি না গেলে বুঝা মুসকিল।

ফটিকছড়িবাসীর কাছে তিনি মুকুটহীন সম্রাট নামে পরিচিত।

তরুণ প্রজন্মের কাছে এটি.এম.পেয়ারুল ইসলাম প্রেরণা পিরামিড।

চলুন এই মহৎ নেতাজি সম্পর্কে আরো কিছু জেনে নিই:

নাম: এ.টি.এম পেয়ারুল ইসলাম।
পদবী: চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ
জন্ম তারিখ: ১০ আগস্ট, ১৯৬০ ইং

পিতা: মরহুম আলহাজ্ব আবুল ফজল চৌধুরী (১৯৩০ সালে  বি.এ পাস করেন)
মাতা:  মরহুম আলহাজ্ব আমেনা বেগম চৌধুরানী
দাদা : তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী ( ব্রিটিশ আমলের আইনজীবী, সমাজসেবক ও শিক্ষাবিদ)

নানা: মোখলেছুর রহমান চৌধুরী (প্রখ্যাত জমিদার, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম)
মামা: আদালত খাঁন (বিশিষ্ট দানবীর ও শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক)

শিক্ষাগত যোগ্যতা:

মাধ্যমিক : আহমদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়।
উচ্চ মাধ্যমিক : নাজিরহাট সরকারি কলেজ।
এমএ (রাষ্ট্রবিজ্ঞান) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়- ১৯৮৪ ইং

বৈবাহিক অবস্থা:

স্ত্রী: জান্নাতুল ফেরদৌস (অর্থনীতিতে এম.এ)
শ্বশুর: বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব.) আবু তাহের সালাহউদ্দীন-বীর প্রতীক

সন্তান

পি এফ এম ওয়াসি-উল ইসলাম (সস্ত্রীক পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা),
পি এফ এম ওয়ালি-উল ইসলাম (বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত)

স্থায়ী ঠিকানা:

তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী বাড়ী, কিপাইত নগর,নানুপুর, ফটিকছড়ি, জেলা-চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ।

বর্তমান ঠিকানা:


পার্ক ভিস্তা, রোড নম্বর- ২, বাড়ি নম্বর- ২০, নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটি, পাঁচলাইশ, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ।
মোবাইল নম্বর- ০১৭১১ ৮৯৫৯৫৭,

মুক্তিযুদ্ধে পরিবারের অবদান:

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে বিএলএফ কমান্ডার ছিলেন বড়ভাই মোহাম্মদ রফিকউদ্দিন। তিনি ছিলেন পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়।

যুদ্ধ শুরু হলে পাকিস্তান থেকে পালিয়ে এসে ভারতে প্রশিক্ষণ নিয়ে বিএলএফ কমান্ডার হিসেবে যুদ্ধ করেন।

এটিএম পেয়ারুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের উদ্দেশে ট্রেনিংয়ের জন্য ভারতে যাওয়ার পথে  কাছাকাছি  পৌঁছলে শিশু বয়সী হওয়ায় বড়জনরা তাঁকে বাড়িতে ফেরত পাঠান।

তাঁদের বাড়িটি ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং ও ট্রানজিট ক্যাম্প, হানাদার পাক বাহিনি  কয়েকবার তাদের বাড়ি আক্রমণ করে।

তাঁর নিকট আত্মীয় নানুপুর ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান  অ্যাডভোকেট নূর আহমদকে পাকবাহিনি নির্মমভাবে হত্যা করে। 

বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক এমপি ও রাষ্ট্রদূত মরহুম নুরুল আলম চৌধুরী, ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক অ্যাডভোকেট এমদাদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের অনত্যম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য অ্যাডভোকেট রফিকুল আলম, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও ন্যাপ নেতা এএমএম শহীদুল্লাহ খালাতো ভাই।

পেশা: ব্যবসা।

চেয়ারম্যান- ফনিক্স সিরামিক অ্যান্ড অটো ব্রিকস লিঃ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক- ডাইনামিক ইন্টারন্যাশনাল লিঃ
প্রোপ্রাইটর- আবুল ফজল মাল্টি ফার্ম ও দরবার এগ্রো ফার্ম লি.

পল্লি হিমাগার প্রা: লি: মালিক ও বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক নির্বাচিত সহ-সভাপতি।

জনাব এ.টি.এম পেয়ারুল ইসলাম ১৯৯০ সাল থেকে নিয়মিত করদাতা।
২০১৪ সালে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন।

দেশের একমাত্র গাড়ি প্রস্তুতকারি প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের পরিচালকের দায়িত্ব পালনকালে দুর্বল প্রতিষ্ঠানটিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন।

সংক্ষিপ্ত রাজনৈতিক পরিচিতি:

মূলতঃ  ১৯৭৪ সালে ফটিকছড়ির মাইজভাণ্ডার আহমদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে স্কুল-ছাত্র সংসদে নির্বাচিত জিএস হিসেবে ছাত্রলীগের রাজনীতি শুরু।

১৯৭৯ সালে নাজিরহাট কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত।চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি, বাংলাদেশ ‘ল’স্টুডেন্টস ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি । বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক।

নব্বইয়ের ছাত্র গণ-আন্দোলনের ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে ছিলেন।

ফটিকছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন । এরশাদ ও জিয়া সরকারের আমলে কারা ভোগ করতে হয়।

১৯৮৬ সালে ফটিকছড়ি নির্বাচনী এলাকা থেকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জনাব নুরুল আলম চৌধুরী, ১৯৯১ সালে জনাব নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে জনাব রফিকুল আনোয়ার এবং পরবতীতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী তাঁর সার্বিক সমর্থন ও কার্যকর ভূমিকায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

রাজনীতি করতে গিয়ে বারবার মৃত্যুর মুখোমুখি: নব্বইয়ের ছাত্র-গণআন্দোলনে ঢাকার ফুলবাড়িয়ায় শহীদ সেলিম দেলোয়ারের সাথে আহত, নূর হোসেন শহীদ হওয়ার সময় তার কাছাকাছি ছিলেন।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতির পিতার আত্মস্বীকৃত খুনী রশিদকে এবং আগামসি লেনে খুনী খোন্দকার মোশতাককে প্রতিহত করতে গিয়ে গুলির মুখে পড়েন।

১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর সাথে ছিলেন এবং  উরিরচরে ঘূর্ণিঝড়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার সাথে ক্ষতিগ্রস্তদের দেখতে গিয়ে  পুনরায় সাইক্লোনের কবলে পড়েন।

১৯৯৭ সালে শান্তি চুক্তির আগের রাতে খাগড়াছড়ির আলুটিলা থেকে গাড়িসহ ১২০ ফুট নিচে পড়ে আল্লাহর রহমতে বেঁচে যান।

২০১৩ সালের ১১ এপ্রিল ভূজপুরের কাজীরহাটে সন্ত্রাস-নৈরাজ্য বিরোধী মিছিলে জামাত শিবির চক্র নারকীয় হামলা চালিয়ে প্রাণনাশের চেষ্টা চালালে নেতাকর্মীরা মানববর্ম করে তাঁক রক্ষা করেন।

সেদিন সন্ত্রাসীদের হামলায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের তিনজন প্রাণ হারায়।

আহত হয় চার শতাধিক। ১২ কোটি টাকা মূল্যের গাড়ি জ্বালিয়ে দেয়।

বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান:  সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখা।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ:

২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফটিকছড়ি সংসদীয় আসন থেকে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থী।

ভেতরে বাইরের নানামুখী ষড়যন্ত্র, ১১ হাজার ‘না ভোট’ পড়ায়  পরাজিত হন। 

প্রথম নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিত্ব:  ১৯৯০ সালে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ উপজেলা  ফটিকছড়ি থেকে নির্বাচিত সর্বকন্ষ্ঠি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তখন তাঁর প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ৭ হাজার ৭২৯।

সাবেক সাধারণ সম্পাদক:  ঐতিহ্যবাহী ঢাকাস্থ চট্টগ্রাম সমিতি। এছাড়া বহুমুখী সমাজসেবা ও মানব কল্যাণমুখী কাজের সাথে সম্পৃক্ত। 

ফটিকছড়ির উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে  ভূমিকা: সাম্প্রতিক সময়ে জনপ্রতিনিধির দায়িত্বে না থেকেও ফটিকছড়ির উন্নয়নে ব্যাপক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন।

বিঃদ্রঃ নৈতিকতা ঠিক রেখে অধ্যবসায় করলে সফলতা নিশ্চিত।