ই কমার্স কি? ই-কমার্সের প্রকার এবং সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

ই কমার্স কি? ইকমার্স, যা ইলেকট্রনিক বাণিজ্য বা ইন্টারনেট বাণিজ্য নামেও পরিচিত। ইন্টারনেট ব্যবহার করে পণ্য বা পরিষেবাদি ক্রয় এবং বিক্রয়, এবং অনলাইন ভিত্তিক যেকোনো লেনদেন কার্যকর করার জন্য অর্থ এবং ডেটা স্থানান্তরকে বোঝায়। ইকমার্স প্রায়শই অনলাইনে শারীরিক পণ্য ক্রয় বিক্রয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়। তবে এটি ইন্টারনেটের মাধ্যমে সহজে যেকোনো ধরণের বাণিজ্যিক লেনদেনকেও বুঝায়।

ই কমার্স কি?

একবাক্যে ইকমার্স বিশেষত অনলাইনে পণ্য এবং পরিষেবার লেনদেনকে বোঝায়।

ই কমার্স কি এর ইতিহাস প্রথম অনলাইন বিক্রয় দিয়ে শুরু হয়:

১১ ই আগস্ট, ১৯৯৪-এ একজন আমেরিকান খুচরা প্ল্যাটফর্ম তার ওয়েবসাইট NetMarket দ্বারা তার বন্ধুর কাছে ব্যান্ড স্টিংয়ের মাধ্যমে একটি সিডি বিক্রি করেছিল।
ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব “বা” ইকমার্স “এর মাধ্যমে কোনো গ্রাহক কোনো অনলাইন ব্যবসায়ী থেকে পণ্য কেনার এটি প্রথম উদাহরণ।

তার পর থেকে, অনলাইন খুচরা বিক্রেতা এবং মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে পণ্য ক্রয় করা সহজ করার জন্য ইকমার্স বিকশিত হয়েছে। স্বতন্ত্র ফ্রিল্যান্সার্স, ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং বৃহত্তর কর্পোরেশনগুলো সকলেই ইকমার্স থেকে উপকৃত হয়েছে। যা তাদের পণ্য ও পরিষেবাগুলো এমন একটি স্কেলে বিক্রয় করতে সক্ষম করে যা ঐতিহ্যবাহী অফলাইন খুচরা মাধ্যমে সম্ভব ছিল না।

ই কমার্স কি
ই কমার্স কি? ই-কমার্সের প্রকার এবং সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

২০২০ সাল নাগাদ বিশ্বব্যাপী খুচরা ইকমার্স বিক্রয় $27 ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 ইকমার্স মডেলগুলোর প্রকারসমূহ:

চারটি প্রধান ধরণের ইকমার্স মডেল রয়েছে। যা গ্রাহক এবং ব্যবসায়ের মধ্যে ঘটে যাওয়া প্রায় প্রতিটি লেনদেনের বর্ণনা দিতে পারে।

০১. বিজনেস টু কাস্টমার (B2C):

একজন নির্দিষ্ট ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কোনো ক্রেতা খুচরো পণ্য ক্রয় করলে, তাকে বিজনেস টু কাস্টমার বা B2C বলে।

০২. বিজনেস টু বিজনেস (B2B):

কোনো ব্যবসায়ী অন্যকোন ব্যবসায়ীর সাথে পণ্য বা সেবা নিয়ে আর্থিক লেনদেন করলে, তাকে বিজনেস টু বিজনেস বলে।

০৩. কাস্টমার টু কাস্টমার (C2C):

যখন কোনো কাস্টমার অন্য কোনো কাস্টমারের কাছে পণ্য বা সার্ভিস সেল করে, তখন তাকে কাস্টমার টু কাস্টমার বলে।
যেমন: bikroy বা olx এর মাধ্যমে গ্রাহক তার পণ্য অন্য কোনো গ্রাহকের কাছে বিক্রি করে।

০৪. কাস্টমার টু বিজনেস (C2B):

যখন কোনো কাস্টমার একজন ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠানকে পণ্য বিক্রি করে, তখন তাকে কাস্টমার টু বিজনেস বলে।

ক্রেতা এবং বিক্রেতার মধ্যে ই-কমার্সে বিভিন্ন রকমের বিক্রয় সম্পাদিত হয়:

০১. খুচরা:

কোনও মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সরাসরি কোনও গ্রাহকের কাছে ব্যবসায়ের দ্বারা পণ্য বিক্রয়।

০২. পাইকারী:

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে খুচরা ব্যাবসায়ীরা বড় প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পাইকারীতে পণ্য বা সেবা ক্রয় করে। এরা পাইকারিতে ক্রয় করে আবার সামান্য মুনাফা রেখে সরাসরি ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করে। মূলত এদের পাইকারী ক্রেতা বলে।

০৩. ড্রপশিপিং:

একটি পণ্য বিক্রয় করতে, উৎপাদনকারী ও বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান। যখন তৃতীয় পক্ষের দ্বারা গ্রাহকের কাছে পণ্য প্রেরণ করেন, তখন তাকে ড্রপশিপিং বলে।

০৪. ক্রাউডফান্ডিং:

কোনো পণ্য বাজারে আনতে প্রয়োজনীয় স্টার্টআপ মূলধন বাড়ানোর জন্য। আগেই ভোক্তাদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে। তারপরে পণ্য বাজারে আনা হয় এবং ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়াটিকে ক্রাউডফান্ডিং বলে।

০৫. সাবস্ক্রিপশন:

গ্রাহক বাতিল না করা পর্যন্ত নিয়মিত ভিত্তিতে কোনও পণ্য বা পরিষেবার স্বয়ংক্রিয় পুনরাবৃত্তি ক্রয় ও বিক্রয় কে সাবস্ক্রিপশন বলে।

০৬. ফিজিক্যাল পণ্য:

স্পর্শ করা যায় এমন পণ্য গ্রাহক অর্ডার করার পরে যা ডেলিভারি করতে হয়।

০৭. ডিজিটাল পণ্য:

ডাউনলোডযোগ্য ডিজিটাল পণ্য, টেম্পলেট এবং কোর্স ইত্যাদি। যা অবশ্যই ব্যবহারের জন্য ক্রয় করা হয় বা ব্যবহারের জন্য লাইসেন্স করা হয়।

০৮. সেবা:

দক্ষতা বা নিজের অভিজ্ঞতা অন্যের কাজে ব্যবহার করে সমাধান বিক্রি করা।

ই কমার্স কি? ও ই-কমার্স ইতিহাসের সমাপ্তি:

আশাকরি, আমি আজকের আপনাদের ই-কমার্স পরিচিতি ও ই-কমার্স ইতিহাসের সামান্য নিখুঁত ধারণা দিতে পেরেছি।
পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ই-কমার্সের বিভিন্ন প্রকার নিয়েও আলোচনা করেছি। যা আপনাদের সাহায্য করবে বলে বিশ্বাস রাখি।

HostGator Web Hosting

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here