1 min read

আমার অধ্যাপক বাবার গল্প – (সমাপ্তি পর্ব)

আমার অধ্যাপক বাবার গল্প সমাপ্তি পর্ব ১ম ও ২য় পর্বের কিছুটা ব্যতিক্রম।

আমার বাবা আমার বড় বোন এবং ছোট ২ বোন নিয়ে বাংলাদেশে থাকেন এবং তিনি একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।

অন্যদিকে আমার মা একজন ব্যবসায়ী। ব্যবসার খাতিরে আম্মুকে বছরের বেশির ভাগ সময় দেশের বাহিরে থাকতে হয়।

এই সহজ বিষয়টি যখন প্রথম কেউ জানেন, তখন একটা মনের মাধুরি মিশিয়ে মন্তব্য করে ফেলেন। কারো টা প্রকাশ পায়, আবার কারো টা প্রকাশ পায় না।

প্রথম দিকে বুঝতে না পারলেও আমাদের চার বোনের জন্য এখন এটা বুঝা বেশ সহজ।

আমি যখন “চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল” এ পড়তাম তখনের ক্লাস এইড নাইনে এটা বেশি ফেইস করছি। আজ আমার ২ ছোট বোনও সেই বিদ্যাপীঠে পড়েন।

দেশের বাহিরে যখন থাকি, তখন এই একটা বিষয় মাঝে মাঝে বিষণ রকমের কষ্ট দেয়।

জানি না ছোট বোনদেরও এরকম পরিস্থিতি ফেইস করতে হয় কিনা এটা ভেবে।

অনেক সময় শ্রদ্ধাবাজন কিছু ব্যক্তিও বলে ফেলেন, আমরা দেখি বাবা বাহিরে থাকেন, আর মা দেশে থাকেন।

আর তোমাদের বেলায় উল্টো। শেষে একটা সন্দেহজনক রহস্যময় হাসি দিয়ে কথার ইতি টানেন।

আমাদেরও অনেক কষ্ট হয়। আমরা বাবা-মাকে একসাথে খুব কম সময় পাই। বছর জুড়ে ৩ বার, তার চেয়ে বেশি হলে ৪ বার।

বাবা মা এক সাথে থাকলে প্রতি সপ্তাহে কোনো না কোনো পারিবারিক ভ্রমণ হবেই। এমন অনেক হয়েছে এক জায়গায় একাধিক বার গিয়েছি।

বাবা মাকে যখন একসাথে পাই, আমাদের সেই আনন্দটা ব্যাখ্যা করার মত না।

ইচ্ছে করে আজীবন বিরতিহীন ভাবে দেখতে। কিন্তু আমাদের ভাগ্য টা যে এতো ভালো না, কি করে দেখবো?

বাবা গ্রাম থেকে উঠে আসা একজন মানুষ। গ্রাম আর দেশের প্রতি বাবার অসামান্য একটা টান। তাই খুব বেশি জরুরি না হলে বাহিরে যান না।

আরো একটা কারণ আছে, বাবার আরো একটি সংসার আছে।

সেখানে আমাদের ভাইবোনে সংখ্যা ২ শতাধিক। সবাই ওনাকে বাবা বলেই ডাকেন।

প্রতি মাসে আলহামদুলিল্লাহ বাড়ছে। বাবা তাদের রেখে দেশের বাহিরে একেবারেই যেতে নারাজ।

বাবা-মা একসাথে পদচারণা টা ২ যুগেরও বেশি সময় ধরে। বাবা মায়ের একসাথে সময়গুলো দেখলে মনে হবে সদ্য বিবাহিত একটা কাপল।

***সমাপ্ত ***

১ম পর্ব এখানে। ২য় পর্ব এখানে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *